বিজ্ঞাপন

নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার বা ৩৩৪ কোটি টাকার পান রপ্তানি হয়। পরের বছর রপ্তানি হয় ১ কোটি ১৩ লাখ ডলারের পান। কারণ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সবজির আড়ালে ইউরোপে পান রপ্তানির চেষ্টা চালানো হয়। এমন বেশ কয়েকটি চালান ধরাও পড়ে। পরে সেটি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ৩০ হাজার ডলারের পান রপ্তানি হয়েছে, এমন তথ্যই পাওয়া গেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পান উৎপাদন করছি। সেটি নিশ্চিত হওয়ার পর গত মাসে ইইউ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। কাল বুধবার ঢাকার শ্যামপুর বিসিক শিল্পনগরের সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউসে ইইউতে পুনরায় পান রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।’

আমরা স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পান উৎপাদন করছি। সেটি নিশ্চিত হওয়ার পর গত মাসে ইইউ বাংলাদেশের পান রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
মোহাম্মদ মনসুর , সাধারণ সম্পাদক, বিএফভিএপিইএ

রপ্তানিকারকেরা জানান, ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশে পান রপ্তানি হয়। তবে ইউরোপে যাওয়া ৯০ শতাংশ পানের গন্তব্য হচ্ছে যুক্তরাজ্য। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যেও পান রপ্তানি হচ্ছে। মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিরাই এই পানের ক্রেতা। বাংলাদেশ থেকে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে করে বিভিন্ন দেশে শাকসবজি এবং ফলমূলের মতো পানও রপ্তানি হয়।

পান রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলতে ইইউর নির্দেশনা মেনে কাজ শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র ও বিএফভিএপিইএ। কুষ্টিয়ার মিরপুর, রাজশাহীর মোহনপুর, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও বরিশালের উজিরপুরের পানচাষিদের নিয়ে কাজ শুরু হয়।

রপ্তানিকারকেরা জানান, মূলত পুকুর বা ভূপৃষ্ঠের ওপর কোনো উৎসের পানি দিয়ে সেচ দেওয়ার কারণে পানে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া হয়। সে কারণে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সাল থেকেই স্যালমোনেলামুক্ত পান উৎপাদন করতে সক্ষম হন চাষিরা। সেই পান অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করেও ইতিবাচক ফল মিলেছে।

ইইউর অন্যান্য শর্ত, যেমন উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চাষ, উৎপাদকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইত্যাদিও অনুসরণ করা হচ্ছে। তা ছাড়া গোবর সার ব্যবহারের পরিবর্তে খইল ব্যবহার করা হচ্ছে। ইইউ সন্তুষ্ট হওয়ার পরই পান রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলেছে বলে জানান রপ্তানিকারকেরা।

বিএফভিএপিইএর উপদেষ্টা মো. মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে ইউরোপের পানের বাজার অনেকাংশেই ভারতের দখলে যায়। তবে ভারতীয় পানের ওপরও ইইউ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই আশা করছি, এই অঞ্চলে আমাদের পান রপ্তানি বেশ বাড়বে।’

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন