বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১. তাইওয়ান

মাথাপিছু জিডিপি, আয়ু ও সামাজিক সহায়তার ক্ষেত্রে হ্যাপিনেস ইনডেস্কে তাইওয়ানের স্কোর বরাবরই ভালো। তাইওয়ান এমন একটি সমাজের প্রতিফলন, যেখানে এক পরিবারের কয়েক প্রজন্ম বাস করে আসছে। ব্যক্তি সুখের চেয়ে সবার একত্রে ভালো থাকাকে মূল্য দেওয়া হয়। তাইওয়ান শুরু থেকেই করোনা মোকাবিলায় ভালো করেছে। এমনকি করোনা বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপও নিতে হয়নি তাদের। আর এই সাফল্যে এ বছর এশিয়ার জন্য ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেসের তালিকায় শীর্ষে তাইওয়ান। বিশ্বের মধ্যে তাইওয়ানের অবস্থান ২৪। গত বছরের চেয়ে এগিয়েছে এক ধাপ।

২. সিঙ্গাপুর

এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সুখী দেশ হলো সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুর হলো বিশ্বের অতিধনী একটি দেশ। তাহলে কেন তারা বৈশ্বিক তালিকায় ৩২ নম্বরে, এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না, এমন পুরোনো প্রবাদ হয়তো বারবারই ব্যবহৃত হয়, তবে এটি যে সত্য, তা–ও বারবার প্রমাণিত হয়। আয়, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ও স্বাস্থ্যকর জীবন প্রত্যাশার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর সত্যিই খুব ভালো অবস্থানে। তবে অন্যদের প্রতি উদারতা ও সামাজিক সমর্থনের শক্তির ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান অতটা ভালো নয়। তাই তো বৈশ্বিকভাবে প্রথম দিকে নেই দেশটি। কারণ, ব্যক্তিগত সম্পর্কই হলো সুখের আসল সুপার চার্জার।

৩. উজবেকিস্তান

মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর মধ্যে একটি হলো উজবেকিস্তান। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, এর স্কোর খুবই ভালো অবস্থানে গেছে। কারণ, এর ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ তাদের জীবনের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ চমৎকার অনুভব করে। সামাজিক সহায়তা ও অন্যদের প্রতি উদারতা নিয়ে তারা বেশ সুখী। শুধু তা–ই নয়, উজবেকিস্তানও দিন দিন অর্থনৈতিকভাবেও ধনী হয়ে উঠছে। ২০ বছর আগে দেশটির দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ, বর্তমানে তা ১০ শতাংশের নিচে। কয়েক বছর ধরে স্থিতিশীলভাবে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে অর্থনীতিটি। ১০ বছর আগে বিশ্বব্যাংক দেশটিকে নিম্ন-আয়ের থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে শ্রেণিবদ্ধ করে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, উজবেকিস্তান অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বড় আকারের সংস্কার করেছে।

৪. কাজাখস্তান

মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে কাজাখস্তান বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনে ১৫ অবস্থান এগিয়ে এসেছে। প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার এ দেশ তাদের নিজস্ব কোভিড-১৯ টিকা কাজভ্যাক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, যা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯৬ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করা হয়। কাজাখস্তান সব ক্ষেত্রেই এক বিস্ময়কর জাতি। ১২০টির বেশি জাতিগত গোষ্ঠী ও জাতীয়তার বাসস্থান এখানে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত দেশ।

৫. থাইল্যান্ড

গত বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, দেশব্যাপী তীব্র খরা ও পর্যটন খাতের করোনা মহামারির প্রভাব বিপর্যস্ত করে থাইল্যান্ডকে। তবে এত কিছুর পরও দেশটি হ্যাপিনেস সূচকে বিশ্বে ৫৪তম অবস্থান ধরে রেখেছে। এশিয়ার পঞ্চম শীর্ষ সুখী দেশ। দীর্ঘায়ু, জীবন উপভোগ করার স্বাধীনতা, আন্তব্যক্তিক সম্পর্ক—এগুলো হলো এমন কিছু ক্ষেত্র, যেখানে থাইল্যান্ড মহামারির মধ্যেও ভালো করেছে।

৬. জাপান

মহামারিটিরতীব্র আঘাত ঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি জাপান। সরকার কিছু সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে করোনা বিধিনিষেধের মতো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আইনের পরবর্তী সংশোধনের কারণে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হলেও কিন্তু অধিকাংশ বিধিনিষেধ বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ফলে ২০২০ অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়। তবে এত কিছুর পরও এশিয়ার সুখী দেশের তালিকায় ৬ নম্বরে দেশটি।

৭. ফিলিপাইনস

আমরা যদি মাথাপিছু জিডিপির পরিসংখ্যান দেখি, ফিলিপাইন ইন্দোনেশিয়া, চীন বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে। আবার যদি আমরা ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ইনডেক্সের দিকে তাকাই, তাহলে ফিলিপাইন তাদের সবার থেকে অনেক এগিয়ে। বর্তমানে সুখী দেশের তালিকায় বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ফিলিপাইনের অবস্থান ৬১তম। এর আগে তাদের অবস্থান ছিল ৫২।

৮. দক্ষিণ কোরিয়া

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া করোনা মহামারি মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্যভাবে সফল হয়েছিল এবং কখনো সম্পূর্ণ করোনা বিধিনিষেধে যায়নি। করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত করলেও মোকাবিলায় সফল তারা। মূলত এর আগে ২০১৫ সালে সার্চ মহামারির থেকে তারা যে শিক্ষা পেয়েছিল, তা–ই তারা এবার কাজে লাগিয়েছে। করোনার একদম শুরু থেকে পদক্ষেপ নিয়েছিল দেশটি।

৯. কিরগিজস্তান

মঙ্গোলিয়ার মতো কিরগিজস্তান এমন একটি দেশ, যারা হ্যাপিনেস ইনডেক্সে কয়েক বছর ধরে এগোচ্ছে। ২০১৭ সালে ৯৮তম, ২০১৮ সালে ৯২তম, ২০১৯ সালে ৮৬তম, ২০২০ সালে ৭৪তম। এ বছর মে পর্যন্ত এর অবস্থান ৬৭তম। ভ্রমণের জন্য নিরাপদ এ দেশের জনসংখ্যা ৬৫ লাখ। কখনো কখনো কঠোর হলেও শান্ত ও সমন্বিত জীবন যাপন করে তারা। সামাজিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যকর জীবন প্রত্যাশায় সবচেয়ে ভালো স্কোর দেশটির।

১০. মঙ্গোলিয়া

গত ৫ বছরে মঙ্গোলিয়া সুখী দেশের তালিকায় ৩০ ধাপ এগিয়ে এখন ৭০তম। গত তিন দশকে দেশটি তার জিডিপি তিন গুণ করেছে, দারিদ্র্যের হার কমিয়েছে। সেই সঙ্গে ১২ বছরের একটি বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তার বর্তমান অর্থনৈতিক সাফল্যের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন