default-image

বাংলাদেশ থেকে এখন প্রতিদিনই ভারতে ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে পশ্চিমবঙ্গের জেলেদের জালেও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। দুই দিক থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কলকাতায় বাংলাদেশের ইলিশের দাম বেশ কমেছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু দাম অনেকটা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। প্রতিকেজি প্রায় দুই হাজার রুপি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।

কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ প্রথম আলোকে জানান, বাংলাদেশের এক কেজি ওজনের ইলিশ পাইকারি বাজারে ৯০০ থেকে এক হাজার রুপিতে বিক্রিতে হচ্ছে। আর এক কেজির একটু কম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ রুপি কেজি দরে।

বিজ্ঞাপন

সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, এখন পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী নদীতেও কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের পর নভেম্বর মাস থেকে কলকাতায় মিয়ানমারের ইরাবতী নদীর ইলিশ আমদানি শুরু হবে। এ ছাড়া বাজারে রয়েছে গুজরাট ও মুম্বাইর আরব সাগরের ইলিশ। গুজরাট ও মুম্বাই থেকে এখনো মাঝে মধ্যে ইলিশ আসছে কলকাতায়। তবে গুজরাট, মুম্বাই বা মিয়ানমারের ইলিশ বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো স্বাদের নয়।

আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার এবারে পশ্চিমবঙ্গে ১ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। সে অনুযায়ী প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ঢুকছে কলকাতায়। গত বুধবার পর্যন্ত ঢুকেছে ৬২১ টন। আজ বৃহস্পতিবার আরও ৬৫ টন ঢোকার কথা। বাকি সব ইলিশ কলকাতায় পৌঁছাবে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। অবশেষে গত বছর দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির ব্যবস্থা করেন। তাতে দারুণ খুশি হন পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ প্রিয় বাঙালিরা। এবার বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানির পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫০ টন করেছে।
এ ছাড়াও ওমান থেকে কলকাতায় আসছে খয়রা ইলিশ বা চকোরি ইলিশ। এই ইলিশের দাম কম, আকারে ছোট, স্বাদও কম। তাই প্রতি কেজি মাত্র ২০০-২৫০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য পড়ুন 0