এর আগে গত সপ্তাহে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো তেলের দাম কমাতে পশ্চিমা দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখন তেলের জন্য রাশিয়ার ওপর অতটা নির্ভরশীল না হলেও রুশ তেল আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। এরপর তারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালায়।

এই বাস্তবতায় তেলের বিকল্প উৎসের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে অনেক বছর পর লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু করেছে।

জানা যায়, বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভান্ডার ভেনেজুয়েলায়। তাদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে। ইতিমধ্যে তারা মার্কিন নাগরিককে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে। শিগগিরই তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করে মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরবে বলে জানা গেছে।

এদিকে জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে তাঁর নীতির কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়েছে। যেসব বিষয় নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শীতল হয়েছে সেগুলো হলো, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির পুনরুজ্জীবন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না করা, হুতি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আখ্যা না দেওয়া, সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু চুক্তিতে সমর্থন না দেওয়া ও যুবরাজ সালমানকে সাংবাদিক খাসোগি হত্যা মামলা থেকে রেহাই দেওয়া।

নির্বাচনী প্রচারণায় জো বাইডেন সৌদি আরবকে অস্পৃশ্য রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তাদের ভালো হওয়ার লক্ষণ নেই বললেই চলে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাবিয়া দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক এখন এক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তবে আমার বিশ্বাস, এখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হবে এবং আমরা ভালো জায়গায় উপনীত হব।’

মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই দেশ তেলের বাজারের বড় খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। তারা বাজারে তেল ছেড়ে দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে।

তবে যুবরাজ সালমানের সঙ্গে কথা না হলেও তাঁর ৮৬ বছর বয়সী পিতা বাদশাহ সালমানের সঙ্গে কথা বলেছেন বাইডেন। এ সময় তাঁরা নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।