ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, শ্রমবাজার শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি পণ্য ও সেবার চাহিদা স্থিতিশীল রাখা। সেটা করা সম্ভব বলেই বিশ্বাস করি, কিন্তু আমাদের মূল্যের স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হবে। আমরা চাই না, উচ্চ মূল্যস্ফীতির শিকড় গভীরে প্রোথিত হোক। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আমাদের অনেক বড় মূল্য দিতে হবে’।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড থর্টন বলেছে, ‘ফেডারেল রিজার্ভ মূলত ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে সুদহার কমানোর বিষয়টি অনেকটা দুই ধারি তলোয়ারের মতো, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে; আবার যদি বেশি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে অর্থনীতির ভেঙে পড়ার উপক্রম হতে পারে।

default-image

ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল মনে করেন, এই নীতি সুদহার বৃদ্ধির ধাক্কা সামলানোর মতো অবস্থায় আছে মার্কিন অর্থনীতি। আর মন্দা হওয়ার আশঙ্কা এখন নেই বলেই তিনি বলেছেন।

ফেডারেল ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে, যদিও উন্নত দেশে মূল্যস্ফীতির সহনীয় হার ২ শতাংশ।

জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এই বাস্তবতায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ইতিমধ্যে দুবার নীতি সুদহার বাড়িয়েছে এবং আজ বৃহস্পতিবার আবারও বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মাসে সুদহার ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার তারা সুদহার বৃদ্ধি করল। দ্য ইকোনমিস্ট ধারণা করছে, ৫৮টি দেশে আগামী তিন বছরে সুদহার বাড়বে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ইতিমধ্যে ১ শতাংশ বেড়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেছে আর অর্থনীতিতে মন্দাভাব তৈরি হয়নি, এমন নজির কম। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ থেকে নামাতে গিয়ে চাহিদায় টান পড়েনি, সর্বশেষ তেমন ঘটনা দেখা গেছে ৭০ বছর আগে। অর্থাৎ ফেডের চেয়ারম্যান মন্দার আশঙ্কা যতই উড়িয়ে দেন না কেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে অর্থনীতি গতি হারাবেই।

নোবেলজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎস প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের এক নিবন্ধে লিখেছেন, এখন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গণহারে সুদহার বাড়ালে ব্যাপারটা ওভারডোজের মতো হবে। চাহিদা হ্রাস করে বা বেকারত্বের হার বাড়তে দিয়ে সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটানোর মানে হয় না। এই নীতি কিছুদিন চললে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে ঠিক, কিন্তু তাতে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হবে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন