সয়াবিন তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ আর্জেন্টিনার রপ্তানি সীমিত করার ঘোষণায় খুব বেশি প্রভাব পড়েনি দামে। তবে গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো নিজ দেশের বাজার সহনীয় রাখতে পাম তেল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় নতুন রেকর্ড হয় পাম ও সয়াবিনের দামে। গতকাল সিবিওটিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৩৫ ডলারে। লিটারে এই দর বেড়েছে ১৫৯ টাকা। পাশাপাশি বেড়েছে পাম তেলের দরও। এসব তেল বাংলাদেশের বন্দর পর্যন্ত আমদানি করতে হলে পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হবে।

পণ্যবাজার বিশ্লেষক আসির হক প্রথম আলোকে বলেন, ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার দিনে বাংলাদেশে পাম তেল আমদানি করতে ব্যয় হতো টনপ্রতি ১ হাজার ৭৬০ ডলার। গতকাল বুধবারের দর অনুযায়ী ১০০ ডলার বেশি দরে, অর্থাৎ ১ হাজার ৮৬০ ডলার খরচ হবে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত আনতে।

ইন্দোনেশিয়ার দৈনিক দ্য জাকার্তা পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি বন্ধের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি মাসে ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হাতছাড়া হবে।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টন পাম তেল আমদানি হয়। এর ৯০ শতাংশ আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। মালয়েশিয়ার চেয়ে তুলনামূলক কম দামের কারণেই ইন্দোনেশিয়া থেকে বেশি পাম তেল আমদানি করা হয়। মালয়েশিয়া থেকে আমদানি হয় ১০ শতাংশ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপ পড়েছিল সয়াবিন ও পাম তেলের ওপর। এখন ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় সব ধরনের ভোজ্যতেলের ওপর প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে বিশ্বে পাম তেল রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৮১ লাখ টন। এই রপ্তানির ৫৬ শতাংশ বা ২ কোটি ৬৮ লাখ টনই করেছে ইন্দোনেশিয়া। মালয়েশিয়া রপ্তানি করেছে ১ কোটি ৫৮ লাখ টন, যা বৈশ্বিক রপ্তানির ৩৩ শতাংশ। বাকি ১১ শতাংশ রপ্তানি করেছে কয়েকটি দেশ মিলে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন