default-image

বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির তালিকা নাড়িয়ে দিয়েছে করোনা। করোনার এই সময়ে বড় বড় অর্থনীতিই ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মন্দা কাটাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও জার্মানি যদিও তালিকার বড় অর্থনীতির চারটি দেশ হিসেবে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারছে, তবে অন্য দেশগুলোর অবস্থানে বড় ঝাঁকি দিয়েছে করোনা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি। সিএনবিসি মার্কিন ডলারের হিসাবে দেশগুলোর চলতি মূল্যে মোট দেশজ উৎপাদন বিশ্লেষণ করেছে। নমিনাল জিডিপি একটা দেশের সম্পদ পরিমাপের সবচেয়ে কার্যকরী একক। জিডিপি মানে হলো দেশের ভেতরকার সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। নমিনাল হিসেবে জিডিপির পুরো চিত্র অনেক সময় দেখা যায় না। কারণ, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা হয় না। তবু একটি সাধারণ মুদ্রায় নমিনাল জিডিপি নির্ধারণ বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক আকারকে পরিমাপ ও তুলনা করার একটি উপায়। আর এ হিসাবেই কোভিডের আগে ও বর্তমানে ১০ বড় অর্থনীতির তালিকায় পরিবর্তনের বিষয়টি বের করেছেন বিশ্লেষকেরা।

২০২০ সালে করোনার কারণে এর বেশ কয়েকটি পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সিএনবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০২০ সালে বিশ্বের বৃহৎ ১০ অর্থনীতি হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়া।

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে সিএনবিসি যে হিসাব করেছে, তাতে করোনার আগে ২০১৯ সালে বিশ্বের ১০ বৃহৎ অর্থনীতি ছিল যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, ব্রাজিল ও কানাডা। ২০২০ সালে করোনার কারণে এর বেশ কয়েকটি পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সিএনবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০২০ সালে বিশ্বের বৃহৎ ১০ অর্থনীতি হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়া।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ প্রথম পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে ভারতের অবস্থান ৫ থেকে চলে গেছে ৬-এ। আইএমএফের তথ্যের সিএনবিসি বিশ্লেষণ অনুসারে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ২০২৩ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থান ফিরে পাবে না।

গত বছর করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল দেশটিকে। আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৮ শতাংশ সংকুচিত হবে। যদিও আইএমএফ আশা করছে যে ২০২২ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশটির অর্থনীতি সাড়ে ১২ শতাংশ হারে বাড়বে। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি দেশটিতে যে অবস্থায় আছে, তাতে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিদিনই প্রায় তিন লাখ করে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংক্রমণে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলেছে দেশটি।

ব্যাংক অব আমেরিকার অর্থনীতিবিদেরা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেন, ‘আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ, ক্রমবর্ধমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এখনো অগভীর পুনরুদ্ধারের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, ভারত যদি আবার এক মাসের লকডাউনও দেয়, তবে তা ভারতের বার্ষিক জিডিপি কমিয়ে দেবে।’

আরেকটি পরিবর্তন দেখা যাবে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে। ২০১৯ সালে নবম বৃহত্তম অর্থনীতি ২০২০ সালে পরিণত হয়েছে ১২তম অর্থনীতিতে। ছিটকে পড়েছে তালিকা থেকে। ২০২৬ সালের মধ্যে আর তালিকায় ঢোকার সম্ভাবনা নেই দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির। করোনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ব্রাজিল।

এখনো সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ। তবে সরকার লকডাউন বা অন্য কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে ব্রাজিলের অর্থনীতি ৪ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ২০২১ সালে তাদের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে, তবে তা-ও নির্ভর করছে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর।

ব্রাজিল ছিটকে পড়ে যাওয়ায় তালিকায় নতুন দেশ হিসেবে জায়গা নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। কোরিয়া ১০ম বৃহত্তম অর্থনীতির জায়গা করে নেবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবস্থান ধরে রাখবে দেশটি। গত বছর চীনের পরই দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়।

তবে দ্রুত লকডাউন পদক্ষেপ ও সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করায় সংক্রমণ পরিস্থিতি বেশ নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলে দেশটি। ২০২০ সালে মাত্র ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি। অনলাইন কার্যক্রম চালু থাকায় কেনাকাটা চললেও পর্যটন ও বিনোদন খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে দেশটির। তবে ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশটির শিল্প ও রপ্তানি খাত শক্তিশালী রয়েছে। আইএমএফ মনে করছে, ২০২১ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন