ভারতের সামনে এখন বিপুল সম্ভাবনা

সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্টের এক সংখ্যায় বেশ কিছু সংবাদ চোখে পড়ার মতো। এসব সংবাদের মূল ভাষ্য হলো, সামনে ভারতের দিন; দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ অর্থনীতির মেরামত করছে; ফলে আগামী দশক হবে ভারতের।

সেই সঙ্গে আরেকটি সংবাদের শিরোনাম হলো—চীন থেকে পালাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। জাপানের মাটিতে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতকে নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

সবকিছু দেখে মনে হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের সহায়তায় ভারতের উত্থান এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।তবে এটা ঠিক, ভারত সম্প্রতি বেশ কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। গত বছর কুখ্যাত রেট্রোস্পেকটিভ ট্যাক্স ল বা ভূতাপেক্ষা কর আইন বাতিলের মধ্য দিয়ে যার যাত্রা শুরু।

এই আইনের কারণে ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ কমে এসেছিল, বিশেষ করে টেলিকম খাত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে ভারত অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সর্বান্তকরণে চেষ্টা করছে। নতুন অর্থনৈতিক জোটের পাশাপাশি তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও তাদের বাণিজ্য বাড়ছে। নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।

২০২১–২২ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৮ শতাংশের মতো, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন পূর্বাভাস দিচ্ছে। বড় দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বলে তারা জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের আকার দাঁড়াবে বাজার মূল্যে পাঁচ ট্রিলিয়ন বা পাঁচ লাখ কোটি ডলার—তখন তারা হবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতি। আর শেয়ারবাজারের আকারের দিক থেকে তারা ইতিমধ্যে চতুর্থ স্থানে, তার আগে আছে কেবল আমেরিকা, চীন ও জাপান।

আর এখনকার যুগের ধারা স্টার্টআপের দিক থেকে ভারত বিশ্বের তৃতীয়—ইউনিকর্ন আছে শতাধিক, যেসব অনিবন্ধিত স্টার্টআপের মূল্যমান ১০০ কোটি ডলার, সেগুলোকে ইউনিকর্ন বলা হয়।

২০১৬ সালে নরেন্দ্র মোদি বড় ব্যাংক নোট বাতিল করলে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৮ সালে ব্যাংকিং খাতে যে বিপর্যয় হয়, তাতে প্রবৃদ্ধির গতি আরেকবার কমে যায়। এরপর ২০২০ সালে কোভিডের শুরুতে বিধিনিষেধ আরোপিত হলে ভারতীয় অর্থনীতি ৭ শতাংশের ওপরে সংকুচিত হয়।

তবে মহামারি ধীরে ধীরে গতি হারাচ্ছে। এ সময় অর্থনীতির চারটি স্তম্ভ চিহ্নিত করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। তারা বলছে, এই চারটি স্তম্ভ ভারতীয় অর্থনীতিকে টেনে নিয়ে যাবে—একক জাতীয় বাজার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তর ও চীন থেকে সরবরাহব্যবস্থা সরে আসার কারণে শিল্পায়নে গতি আসা, আইটি খাতের ধারাবাহিক বাড়বাড়ন্ত ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক নিরাপত্তা জাল।

নরেন্দ্র মোদির শাসনামল নিয়ে বিশ্লেষকেরা অনেক সমালোচনা করেন। কিন্তু দ্য ইকোনমিস্টের ভাষ্যমতে, মোদি সরকারের সফলতা হলো, বাস্তবায়নঅযোগ্য নিখুঁত পরিকল্পনা করা নয়; বরং দ্বিতীয় সেরা নীতি প্রণয়ন করে তা জোরপূর্বক বাস্তবায়ন করা। তারা জানে, ভারতে শিল্পায়ন সম্ভব, কিন্তু দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার মতো অত দ্রুতগতিতে নয়। প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে ঠিক, সেই সঙ্গে ভারত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। আর ১৯৯০ ও ২০০০–এর দশকের উন্মুক্ত বিশ্বায়নের দিন শেষ, যেখান থেকে চীন এককভাবে লাভবান হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, ভারতীয় অর্থনীতির সামনে এখন বিপুল সম্ভাবনা।

একক জাতীয় বাজার

ভারতের মতো বড় এবং বহু ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার দেশে একক জাতীয় বাজার কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের একক জাতীয় বাজারের মধ্যে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ফার্ম ঢুকে পড়ছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি ফার্ম ও ভোক্তা এখন আধুনিক অর্থব্যবস্থা ব্যবহার করছেন। অপ্রাতষ্ঠানিক খাত ক্রমেই এর মধ্যে চলে আসছে। অথচ পাঁচ বছর আগে ভারতের মোট উৎপাদনের দুই–পঞ্চমাংশ হতো এই অনানুষ্ঠানিক খাতেই, আর কর্মসংস্থানের ৮৭ শতাংশ হতো এখানেই। সব যে নরেন্দ্র মোদির জমানায় হয়েছে তা নয়, তবে মোদির আমলে এসব সংস্কারে গতি এসেছে।

অবকাঠামো

অবকাঠামো উন্নয়নের পূর্বশর্ত—যুগে যুগে কালে কালে এটাই হয়ে আসছে। ভারতের জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্ক এখন ২০১৪ সালের চেয়ে ৫০ শতাংশ বড়। একই সঙ্গে মহাসড়কে তারা ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। ফলে টোল প্লাজায় এখন আর অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। গত আট বছরে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আকাশপথে মালামাল পরিবহন বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। মুঠোফোনের বেসস্টেশন বেড়েছে তিন গুণ। ব্রডব্যান্ড গ্রাহকের সংখ্যা ৭৮ কোটি ছাড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের ইক্যুইটি ফার্মগুলো ভারতজুড়ে ওয়্যার হাউস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

অবকাঠামো এখন আর নিছক সড়ক ও কংক্রিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ডিজিটাল অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যার সবচেয়ে বড় নিদর্শন হচ্ছে আধার কার্ড—নাগরিকদের বায়োমেট্রিক পরিচিতি, যার মধ্য দিয়ে নাগরিকদের সবার ব্যাংক হিসাব হয়েছে। এর সঙ্গে আছে ন্যাশনাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউপিআই। পণ্য ও পরিসেবা কর ব্যবস্থার (জিএসটি) মাধ্যমে আন্তরাজ্য বাণিজ্য সহজ হয়েছে। একক কর থাকার কারণে একেক রাজ্যে একেক কর দিতে হচ্ছে না।

এতে ব্যবসা–বাণিজ্যে স্বচ্ছতা এসেছে, আধুনিক ব্যাংকব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা এখন করের আওতায় আসছে, আগে যারা একরকম করের আওতার বাইরে ছিল। আর ২০২০ সালে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে মাসিক জিডিপির ১৩ শতাংশ সমপরিমাণ লেনদেন হতো, আর এ বছরের এপ্রিল মাসে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রায় প্রতি মাসেই জিএসটি আদায়ের রেকর্ড হচ্ছে—এপ্রিলে যা মাসিক জিডিপির ৮ শতাংশে উঠেছে। এসব কারণে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে ছোট ছোট অপ্রাতিষ্ঠানিক ফার্মের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমেছে। তাদের কাজের পরিসর ছোট হয়ে আসছে। কিন্তু সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ফার্মের সক্ষমতা বাড়ছে। ম্যাককিনসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের শীর্ষ ৬০০ ফার্ম এখন আগের চেয়ে ১১ গুণ বেশি উৎপাদনশীল।

উৎপাদন খাত নিয়ে ভারতের উদ্বেগ অবশ্য থেকেই যাচ্ছে। গত এক দশকে ভারতের জিডিপিতে উৎপাদন খাতের হিস্যা ১৭ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৯ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যেই থাকছে। ফলে বৈশ্বিক পণ্য রপ্তানিতে ভারতের হিস্যা এখনো মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

বড় ব্যবসা

ভারতের বড় কোম্পানিগুলোর ক্যাশ ফ্লো বাড়ছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি মার্সেলাসের তথ্যানুসারে, ভারতের করপোরেট দুনিয়ার অর্ধেক ক্যাশ ফ্লো হচ্ছে শীর্ষ ২০টি কোম্পানির মাধ্যমে। ফলে আদানি, টাটা ও রিলায়েন্সের মতো বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল বিনিয়োগ করছে ভারতে ব্যাংক ঋণের দ্বারস্থ না হয়েই।
সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই কোম্পানিগুলো আগামী চার থেকে আট বছরে ২৫০ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।

পরিবেশদূষণ রোধে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ধাবিত হচ্ছে ভারত। এর জন্য হাইড্রোজেন খুব গুরুত্বপূর্ণ। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা হাইড্রোজেনের দাম কেজিতে ৫ ডলার থেকে কমিয়ে ১ ডলারে নামিয়ে আনতে চায়। বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য সবচেয়ে জরুরি জিনিস ব্যাটারির কারখানা স্থাপন করেছে টাটা। সেই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টরও বানাবে তারা। শুধু টাটা নয়, বৈশ্বিক অনেক কোম্পানি এখন ভারতে সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে আগ্রহী। চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে আনার কৌশলের অংশ হিসেবে তারা এসব করছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে। তবে তাদের যে সক্ষমতা, এই ঝুঁকি তারা নিতেই পারে, বিশ্লেষকেরা তেমনটাই বলছেন।

আবার এই বড় বড় কোম্পানির ওপর অতি নির্ভরশীলতার কারণে স্বজনতোষণের পুঁজিবাদ আরও জেঁকে বসতে পারে—এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। এখন এই বড় চার কোম্পানির মুনাফা ভারতের জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ—যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চার কোম্পানির ক্ষেত্রে যা প্রায় এর দ্বিগুণ। তবে এই বড় কোম্পানিগুলো যে হারে পুনর্বিনিয়োগ করছে, তাতে ভারত সরকার খুশি।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা চীন ছাড়তে চাইছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ভারত। সে জন্য বিনিয়োগকারীদের ভারতে আকৃষ্ট করতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ২৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছে। মোট ১৪টি শিল্পের জন্য আগামী পাঁচ বছর এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং এবং তাইওয়ানের ফক্সকন এই তহবিলের সুবিধা নিয়ে ভারতের মুঠোফোন উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। শুধু বিদেশি কোম্পানি নয়, ভারতীয় কোম্পানি ওলা এই সুবিধা নিচ্ছে। বেঙ্গালুরু শহরের ৯০ কিলোমিটার দূরে একটি বৃহৎ স্কুটার কারখানা স্থাপন করেছে তারা। তাদের লক্ষ্য—শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া।

প্রযুক্তি

ভারতের নতুন উত্থানের তৃতীয় স্তম্ভ অবশ্য নতুন কিছু নয়, সেটি হচ্ছে প্রযুক্তি। গত ১০ বছরে ভারতের আইটি সেবা ও আউটসোর্সিং খাতের আকার স্রেফ দ্বিগুণ হয়েছে। ভারতের আইটি খাতের বার্ষিক রাজস্ব এখন ২৩০ বিলিয়ন ডলার। সে কারণে ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সেবা রপ্তানিকারক দেশ, যদিও পণ্য রপ্তানির দিক থেকে তারা ষষ্ঠদশ। আইটি খাতে ভারতের প্রধান শক্তি হচ্ছে তার জনবল—সফটওয়্যার প্রকৌশলী। এখন সারা বিশ্বের ক্লাউড সেবার যে রকম বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, তাতে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাহিদা আরও বাড়বে বলেই ধরে নেওয়া যায়। ইতিমধ্যে ভারতের ৫০ লাখ মানুষ এই খাতে কাজ করছেন, তাই এখন নতুন প্রতিভা খুঁজে পাওয়া ভারতের চ্যালেঞ্জ। সেজন্য তাদের শিক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

ডিজিটাল কল্যাণ

ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের চতুর্থ স্তম্ভ হবে ডিজিটাল কল্যাণ। আধার কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ভর্তুকি থেকে শুরু করে কর্ম সহায়তা—সবই সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসেবে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে আমলাতান্ত্রিক লালফিতার দৌরাত্ম্য কমেছে এবং এই খাতে ব্যয় বেড়েছে। এ বছরের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে সামাজিক কল্যাণ খাতে ভারত সরকার ১৮ বিলিয়ন ডলার বা তার জিডিপির ৩ শতাংশ খরচ করেছে, অথচ এক বছর আগেই যা ছিল মাত্র ১ শতাংশ।

২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সামাজিক কল্যাণ খাতে ভারত সরকার ২৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে—প্রায় ৯৫ কোটি মানুষ এতে উপকৃত হয়েছে। হিসাব করলে দেখা যায়, মানুষ জনপ্রতি বছরে ৮৬ ডলার করে পেয়েছে। ইকোনমিস্ট বলছে, নরেন্দ্র মোদি সরকার চাকরির বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করতে না পারলেও সামাজিককল্যাণে বড় কিছুই করছে। এতে অবশ্য সরকারের ঋণ অনেকটাই বেড়েছে—জিডিপির ৮৭ শতাংশ।

তবে নরেন্দ্র মোদির জমানা ভারতবাসীকে পুষ্পশয্যা দেয়নি। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে সে দেশ বিভাজিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজনীতির এই বিভাজন অর্থনীতিকে স্পর্শ করতে পারেনি। গুজরাট দাঙ্গার পরও দেখা গিয়েছিল, পরের বছর গুজরাটের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ—জাতীয় হারের দ্বিগুণ। সেই সঙ্গে ভারতের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন আছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। কোভিড মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা প্রকটভাবেই ফুটে ওঠে গত বছর।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের ভাষ্য হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদির এই সরকার নীতি প্রণয়নে দিক থেকে অনেক বেশি ধারাবাহিক এবং আগের সরকারের মতো অতটা দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। সবচেয়ে বড় কথা, বিজেপির কর্তৃত্ব ভারতকে ধারাবাহিকতা দিয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা। নরেন্দ্র মোদির সরকারে আদর্শবাদী বা বড় চিন্তার মানুষ নেই, কিন্তু এই সরকার অনেক বেশি উন্মুক্ত বলে তাঁরা মনে করেন। তারা কাজটা করিয়ে নিতে পারে, সে জন্য সব শক্তিকে একত্র করতে পারে তারা, এটাই তাদের অনন্যতা দিয়েছে। ‌