'লোকসান মানলেও কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন হলে সহ্য করব না'

ওয়ারেন বাফেট
ওয়ারেন বাফেট

‘ব্যবসায়ে বড় অঙ্কের লোকসানও মেনে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোম্পানির এক কানাকড়ি সুনাম ক্ষুণ্ন হলেও সেটি কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। কারণ সুনামই হলো কোম্পানির সবকিছু।’
দুনিয়াজুড়ে দেশে দেশে অনেক ধনকুবের বা কোম্পানি যেখানে মান-ইজ্জতের তোয়াক্কা না করেই ব্যবসায় বাড়াতে চান, সেখানে এক শ ভাগ ব্যতিক্রম হলেন বিনিয়োগগুরুখ্যাত ওয়ারেন বাফেট; যিনি এই মুহূর্তে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা ধনী। নিজের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের ৮০টিরও বেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপকদের লেখা এক মেমো বা চিঠিতে তিনি কোম্পানির সুনাম সমুন্নত রাখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে নজর দিতে বলেছেন। মেমোতে ম্যানেজারদের ‘অল স্টার’ বা ‘সব তারকা’ বলে সম্বোধন করেছেন।
বাফেট তাঁর ৫০ বছরের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ারসহ অন্যসব সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের উদ্দেশে প্রতি দুই বছর পর এ রকম একটি চিঠি পাঠিয়ে থাকেন। এ নিয়ে তিনি ব্যবস্থাপকদের ২৫তম বারের মতো মেমো পাঠালেন। বার্কশায়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বিমান লিজ দেওয়া, গয়না বিক্রি, সংবাদপত্র প্রকাশ, আসবাব ভাড়া, ইট তৈরি, বৈমানিক প্রশিক্ষণ প্রভৃতি কাজ করে থাকে।
এবারের চিঠিতে বাফেট বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরেই বলে আসছি, আমরা ব্যবসায়ে অর্থ খোয়াতে পারি, এমনকি বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান হলেও সেটি মানা যায়। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই কোম্পানির সুনাম খোয়াতে পারি না। এমনকি সুনামের এক কানাকড়ি হারালেও তা সহ্য করব না।’
আসলে সুনাম সম্পর্কে সচেতনতা থাকাটা বাফেটের কাছে বড় এক আদর্শ বটে। নিজ কোম্পানির বাইরে বিভিন্ন ফোরামেও তিনি বহু বছর ধরে কোম্পানির সুনাম সুরক্ষায় জোর দিয়ে আসছেন। প্রায় দুই যুগ আগে ১৯৯১ সালের দিকে ডুবতে বসা বিনিয়োগ ব্যাংক স্যালোমন ব্রাদার্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি একই অভিপ্রায় তুলে ধরেন। তখন তিনি বলেন, ‘কোম্পানির ব্যবসা চালাতে গিয়ে লোকসান দিলে সেটা আমি মেনে নেব। কিন্তু কোম্পানির এক বিন্দু সুনাম খোয়ালেও আমি বড় নিষ্ঠুর হয়ে উঠব।’
সর্বশেষ মেমোতে তিনি ব্যবস্থাপকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে পারেন তাহলেই কেবল আমরা ভবিষ্যতের ভিত বিনির্মাণ করতে পারি।’
সাধারণত বাফেটের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপকেরা ব্যাপক স্বাধীনতা নিয়েই কাজ করতে পারেন। তাঁরা কোম্পানির ছোট-বড় যেকোনো বিষয় নিয়ে বাফেটের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ পান। এবারের চিঠিতেও সেই আহ্বান জানিয়েছেন বাফেট। এতে তিনি বলেন, ‘সংক্ষিপ্তাকারে হাতে লেখা নোট পাঠাবেন। আর তাতে লিখে দেবেন, “ওয়ারেনের (বাফেট) ব্যক্তিগত”।’
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় বাফেট সম্প্রতি চতুর্থ থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল