গত শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস নিজেই সংক্ষিপ্ত বাজেটের দুটি প্রস্তাব ফিরিয়ে নেন। তিনি আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, শিল্প সংস্থাগুলোর ওপর আরোপিত করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হবে। এ ছাড়া দেশের সর্বোচ্চ করদাতা যাঁরা, তাঁদের জন্য করের ঊর্ধ্বসীমা ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করতে চেয়েছিলেন ট্রাস। কিন্তু চাপের মুখে শুক্রবার ট্রাস জানান, উভয় ক্ষেত্রেই এই কর হ্রাস আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে সংক্ষিপ্ত বাজেট পেশ করেছিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী ট্রাস ও তাঁর পছন্দের অর্থমন্ত্রী কোয়ারতেং। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করার কথা। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে আর দেরি করতে চাননি হান্ট। গতকাল তিনি হাউস অব কমন্সে বাজেট-প্রস্তাব পেশ করেন। নতুন অর্থমন্ত্রীর দাবি, অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাওয়া ব্রিটেনকে নতুন দিশা দেখাবে এসব প্রস্তাব।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস স্বীকার করেন, তাঁর ভুল কার্যক্রমের ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং দলের ভেতরে-বাইরে তাঁর অবস্থান অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। সে জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি দায় স্বীকার করছি এবং যে ভুলগুলো হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। উচ্চ করহারের সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি জ্বালানির দাম হ্রাস করে জনগণকে সহায়তা করতে চেয়েছি আমি, কিন্তু আমরা তাড়াহুড়া করে ফেলেছি।’

ট্রাসের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে, পাউন্ডের মান ও সরকারি বন্ডের মূল্য পড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন নাজুক হয়ে পড়ে যে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বাজার চাঙা করতে ৬৫ বিলিয়ন পাউন্ডের কর্মসূচি নিয়ে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

এদিকে ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেও প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন লিজ ট্রাস।