বড় লোকসানে বোয়িং, ক্ষতি বাড়ছে প্রতিরক্ষা ব্যবসায়

বোয়িং উড়োজাহাজ
ফাইল ছবি: রয়টার্স

বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো নয়। কোম্পানির নির্বাহীরা শুরুতে যেভাবে ভেবেছিলেন, এ ব্যবসার মোড় ফেরানো তার চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে। সরবরাহকারীদের ভুল ও উচ্চ নির্মাণ ব্যয়ের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান ও নাসার স্টারলাইন ক্যাপসুল প্রকল্পে বোয়িংয়ের এ বছর ১৭০ কোটি ডলার ক্ষতি হবে।

২০২২ সালে বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা খাতে ৪৪০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটি ভেবেছিল, এ বছর প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না। কিন্তু চলতি বছরেও বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা খাতের ব্যবসায়ে বিশেষ উন্নতি হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে যত ক্ষতি হয়েছে, ২০১৪ সালের পর আর কোনো বছরে তা হয়নি।

অথচ ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। এ সময় বোয়িংয়ের সমকক্ষ অন্যান্য কোম্পানি যেমন লকহিড মার্টিন, জেনারেল ডায়নামিকস ও আরটিএক্সের আয় বাড়লেও বোয়িং প্রতিরক্ষা খাতের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তবে অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে বোয়িংয়ের পার্থক্য হলো, বোয়িং নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পে আটকে আছে। এ কারণে প্রযুক্তির ব্যয় বেড়ে গেলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা খাতে এবার যত ক্ষতি হয়েছে তার মধ্যে আছে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যার বড় অংশ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এয়ারফোর্স ওয়ানের বিমান বহরের দুটি বিমানের জন্য। এই খাতে ক্ষতি হয়েছে ৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং আরেক অনামা ভূ-উপগ্রহের জন্য ক্ষতি হয়েছে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

তবে বোয়িংয়ের নির্বাহীরা আশা করছেন, নতুন বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে এই উপগ্রহ ইউনিটকে অন্তত এক অঙ্কের মুনাফার ঘরে নিয়ে আসা যাবে। তত দিনে বোয়িংয়ের সবচেয়ে সমস্যাক্রান্ত কর্মসূচি উড়ান পরীক্ষার সময় পেরিয়ে স্থিতিশীল হবে।

বোয়িংয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্রায়ান ওয়েস্ট রয়টার্সকে বলেন, ২০২৫-২৬ সালে মুনাফার ধারায় ফেরার লক্ষ্যে উৎপাদন হ্রাস থেকে শুরু করে কোম্পানির সব বিভাগে ব্যয় সাশ্রয়ের কৌশল হাতে নেওয়া হবে।

ক্যাপিটাল আলফা পার্টনার্সের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বায়রন ক্যালান মনে করেন, বোয়িংয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে তত্ত্বাবধানের ঘাটতি থাকায় কোম্পানিটি এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বলা দরকার, চলতি বছর বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৬ শতাংশ কমেছে, যেখানে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ।

রয়টার্স জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি স্থির মূল্যের চুক্তির কারণে বোয়িং এত বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নাসার সঙ্গে চুক্তির কারণে। উপকরণের দাম বেড়ে গেলেও স্থির মূল্যের চুক্তির কারণে বোয়িং এদের কাজ আগের দামেই করতে বাধ্য হচ্ছে।

বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা খাতের আয়ের ১৫ শতাংশ আসে এ দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে। এসব চুক্তি আবার করা হয়েছে বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স সংকট, মহামারি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির জমানার আগে থেকে। সেই সঙ্গে কেসি-৪৬ জ্বালানি ট্যাংক নির্মাণে ভুল বের হওয়ায় তারা অতিরিক্ত ঝামেলায় পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমানবহরের জন্য দুটি ৭৪৭ জেট সজ্জিত করতে বোয়িং যে চুক্তি করেছে, তাতে কোম্পানির এ বছরই ৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি জেটে তাদের ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য দিয়েছে সিএনএন।

এয়ারফোর্স ওয়ান বিমান তৈরি ছাড়াও অন্য কারণেও বোয়িং ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুটি বড় দুর্ঘটনার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উড়ান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০১৯ সালের পর প্রায় প্রতি প্রান্তিকেই বোয়িংয়ের ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে তাদের ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বোয়িং ভবিষ্যতে কোনো কিছু তৈরিতে স্থির মূল্যের চুক্তিতে যাবে না বলে বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া মুনাফার হার বাড়াতে তারা পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত মানের ড্রোন তৈরি করবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।