বড় বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উন্মাদনা আর এর সঙ্গে পুরোনো ধাঁচের উত্তরাধিকার—সব মিলিয়ে গত এক বছরে অল্প বয়সে বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতি হওয়া কিছুটা সহজ হয়েছে।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের ‘বিলিয়নিয়ার’ বা শতকোটিপতি তালিকায় ৩০ বছরের কম বয়সী বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতি মানুষের সংখ্যা রেকর্ড স্পর্শ করেছে। তাঁদের সংখ্যা মোট ৩৫। যদিও বিশ্বজুড়ে ৩ হাজার ৪২৮ শতকোটিপতির মধ্যে তাঁরা মাত্র ১ শতাংশ, ২০২৫ সালের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
ওষুধের দোকান ও প্লাম্বিং সরঞ্জাম থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারের পূর্বাভাস ও এআই-ভিত্তিক কোডিং—বিভিন্ন খাতে ব্যবসা করে তাঁরা এই সম্পদের মালিক হয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশই উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পেয়েছেন, তারপরও রেকর্ডসংখ্যক ১২ জন নিজের চেষ্টায় এ অবস্থানে পৌঁছেছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী আত্মপ্রতিষ্ঠিত শতকোটিপতিরা এবার নতুন করে বা প্রথম তালিকায় এসেছেন। এআইভিত্তিক স্টার্টআপ মেরকরের প্রতিষ্ঠাতা ত্রয়ী—সূর্য মিধা, ব্রেন্ডান ফুডি ও আদর্শ হিরেমাথ, প্রত্যেকের বয়স ২২ বছর এবং প্রত্যেকের সম্পদ ২২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি বছরের জন্য গড়ে ১০ কোটি ডলার সম্পদ অর্জন করেছেন তাঁরা।
দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বের শীর্ষ ৩৫ জন অনূর্ধ্ব–৩০ বছর বয়সী শতকোটিপতির মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী কারা। চলতি মাসের ১ তারিখের ভিত্তিতে এ সম্পদের হিসাব করা হয়েছে।
পেদ্রো লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক মোটর কোম্পানি ডব্লিউইজির একজন বড় শেয়ারহোল্ডার। শেয়ারধারীদের মধ্যে আছেন তাঁর ভাই ফেলিপে ও বোন অ্যামেলি।
কেভিন লেহম্যান উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০১৭ সালে তাঁর বয়স যখন মাত্র ১৪ বছর, তখন থেকে তাঁর বাবা ধীরে ধীরে ব্যবসায় যুক্ত করেন তাঁকে। জার্মানির শীর্ষ ওষুধের চেইন ডিএম-ড্রোগেরি মার্ক্টের ৫০ শতাংশ শেয়ারের উত্তরাধিকারী হন কেভিন। লেহম্যানের বাবা প্রথম এই ব্র্যান্ডে বিনিয়োগ করেছিলেন ১৯৭৪ সালে।
হিরেমাথ ২০২৩ সালে মেরকরের সহপ্রতিষ্ঠাতা হন। তিনি ব্রেন্ডান ফুডি ও সূর্য মিধার সঙ্গে মিলে মেরকর প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানি বড় এআই ল্যাবগুলোর মডেল ট্রেনিংয়ে সহায়তা করে।
এআইভিত্তিক সফটওয়্যার কোম্পানি মেরকরের সিইও ব্রেন্ডান ফুডি। ২০২৩ সালে মেরকর প্রতিষ্ঠার পর ফুডি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়া ছেড়ে দেন। তার আগে তিনি দুটি স্টার্টআপ শুরু করেছিলেন। সেই দুটি স্টার্টআপও ছিল সফটওয়্যারভিত্তিক।
সূর্য বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ আত্মপ্রতিষ্ঠিত শতকোটপতি। তিনি ও তাঁর দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা—প্রত্যেকে কোম্পানির প্রায় ২২ শতাংশ শেয়ারধারী। ভারতীয় অভিবাসী পিতা–মাতার সন্তান সূর্য ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মিধা ও তাঁর সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেন্ডান ফুডি ও আদর্শ হিরেমাথ ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিশ্বের তিন কনিষ্ঠ আত্মপ্রতিষ্ঠিত শতকোটিপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁদের এআইভিত্তিক সফটওয়্যার কোম্পানি মেরকরের মূল্যায়ন হয়েছিল ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার।
নেক্সনের প্রতিষ্ঠাতা কিম জং-জুর (মৃত্যু ২০২২) কনিষ্ঠ কন্যা কিম জং-ইউন। দক্ষিণ কোরিয়া-জাপানভিত্তিক এই অনলাইন গেমিং কোম্পানিতে তাঁর মালিকানা রয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। নেক্সন বর্তমানে ৮০টির বেশি লাইভ গেম পরিচালনা করে। এর মধ্যে আছে ম্যাপলস্টোরি, কার্টরাইডার ও ডানজিয়ন অ্যান্ড ফাইটারের মতো জনপ্রিয় গেম।
হোল্ডিং কোম্পানি ডেলফিনে ক্লেমেন্তের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার আছে। বিশ্বখ্যাত চশমা কোম্পানি এসিলরলাক্সোটিকায় ডেলফিনের বিনিয়োগ আছে। রে-ব্যান ও পারসোলের মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের চশমা বানায় এই এসিলরলাক্সোটিকা।
লিভিয়া লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক মোটর কোম্পানি ডব্লিউইজির অন্যতম শেয়ারধারী। এই কোম্পানিতে তাঁর শেয়ার আছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ডব্লিউইজি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর পিতামহ ভের্নার রিকার্ডো ভয়গ্ট। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রয়াত বিলিয়নিয়ার এগন জোয়াও দা সিলভা ও জেরালদো ভার্নিংহাউস।
জার্মানির ওষুধ কোম্পানি বোয়েরিঙ্গার ইনগেলহাইমের সর্বকনিষ্ঠ উত্তরাধিকারী এই ফন বাউমবাখ। ২০১৫ সাল থেকে কোম্পানিটির নেতৃত্বে আছেন তাঁর পরিবারেরই একজন। এখন দায়িত্বে আছেন জোহানেসের চাচা হুবার্টুস ফন বাউমবাখ। তিনি স্কিইং (বরফের ওপর দিয়ে চলার জন্য পায়ের তলায় বাঁধা কাঠের লম্বা সরু ফালি বা পাত) করেন। অস্ট্রিয়ার প্রতিযোগিতামূলক স্কিইং লিগে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী শতকোটিপতির তালিকায় প্রথমে আছেন অ্যামেলি ভয়গ্ট ত্রেজেস। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক মোটর কোম্পানি ডব্লিউইজির অন্যতম বৃহৎ শেয়ারধারী তিনি। ডব্লিউইজি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর দাদা ভের্নার রিকার্ডো ভয়গ্ট। বিশ্বের ১০টির বেশি দেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কারখানা আছে। বছরে কোম্পানিটির আয় প্রায় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার।