বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দেওয়ার পরই এমনটি ঘটেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানে ‘অত্যন্ত কঠোরভাবে’ হামলা চালানো হবে। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি। খবর বিবিসির।
ট্রাম্পের ওই ভাষণের পরপরই বিশ্ববাজারে আজ শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের মূল্য সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের মূল্যও ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপর উঠে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে।
ট্রাম্প তাঁর ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির এই যুদ্ধের ‘কৌশলগত লক্ষ্য’ পূরণ করবে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলবে।
এর আগে গত বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। বাজারে আশা ছিল, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সরে আসবে, সে বিষয়ে কিছু বলবেন। কিন্তু তাঁর ভাষণে আগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে এ পথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা নেই। তিনি অন্য দেশগুলোকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইন্টারক্যাপিটাল এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলবার্তো বেলোরিন বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধবিরতির আশাবাদে যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল, বাজার তা থেকে সরে এসেছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখন সপ্তাহ নয়, মাসও লাগতে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।