আয়ারল্যান্ডে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের দুর্গ কিনলেন জাকারবার্গ

মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানএএফপি

মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে ১৯৬ বছরের পুরোনো এক গথিক দুর্গ কিনেছেন। দুর্গটির নাম স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল। আইরিশ টাইমসের হিসাব, ১১টি শয়নকক্ষের এই ঐতিহাসিক বাড়িটির মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ডলার থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা নিউইয়র্কের পেন্টহাউসে বসবাসকারী ধনী মার্কিনদের মধ্যে ইউরোপে ঐতিহাসিক বাড়ি কেনার প্রবণতা বাড়ছে। মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারবার্গও সেই তালিকায় যুক্ত হলেন।

আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল ১৯ শতকের গথিক স্থাপত্য রীতিতে তৈরি। বাড়িটি ১৮৩০ সালে নির্মিত হয়। পরে ২০০৩ সালে এর ব্যাপক সংস্কার করা হয়।

তিনতলা এই প্রাসাদে আছে ১১টি বড় শয়নকক্ষ। সম্মুখভাগ গথিক রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীতে পাথরের নির্মিত। প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুটের বাড়িটি ঘিরে আছে ৪৪০ একর বিস্তৃত সবুজ জমি।

দুর্গটির প্রকৃত মূল্য কত, তা আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্পত্তির মূল্য নিবন্ধনে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আইরিশ টাইমস জানিয়েছে, জাকারবার্গ দম্পতির নতুন বাড়িটির মূল্য দুই থেকে তিন কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে।

বিলাসিতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি জাকারবার্গের এই বাড়ি কেনার বাস্তব কারণও থাকতে পারে। মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে, স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল থেকে প্রায় ১২৫ মাইল দূরে।

পরিবারটি অবশ্য সারা বছর আয়ারল্যান্ডে থাকবে না। তবে এই বাড়ি ইউরোপে তাঁদের বসবাসের মূল জায়গা হিসেবে কাজ করবে। সেখান থেকে তাঁরা অন্য জায়গায় যাতায়াত করবেন।

ওয়াটারফোর্ডের এই দুর্গ কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াটারফোর্ড সিটি ও কাউন্টি কাউন্সিল জানায়, শহরের মনোরম রূপ ও দুর্গম উপকূল তাঁদের আকৃষ্ট করেছে।

জাকারবার্গের মুখপাত্র ব্রায়ান বেকার বলেন, মার্ক ও তাঁর পরিবার আয়ারল্যান্ডে সময় কাটাতে আগ্রহী। সেখানে মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর অবস্থিত।

ইউরোপে বাড়ি কিনছেন ধনী মার্কিনরা

ইউরোপে সম্পত্তি কিনেছেন, এমন মার্কিন ধনীদের মধ্যে জাকারবার্গই একমাত্র ব্যক্তি নন।

২০১৯ সালে হেজ ফান্ড ব্যবসায়ী কেন গ্রিফিন বাকিংহাম প্যালেসের কাছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলারে জর্জিয়ান আমলের প্রাসাদ কিনেছিলেন। তখন এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল লন্ডনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি বিক্রির ঘটনা।

কার্লটন গার্ডেনসের ৩ নম্বর বাড়িটির আয়তন ১৬ হাজার বর্গফুট। এতে স্পা ও ইনডোর সুইমিংপুল আছে। ঐতিহাসিকভাবেও বাড়িটির গুরুত্ব আছে—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গলের সদর দপ্তর ছিল।

এ ছাড়া জর্জ ক্লুনি, টম ফোর্ড ও গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিটের মতো ধনী মার্কিনরাও ইউরোপে বাড়ি কিনেছেন।

শুধু তারকারাই নন, আরও অনেক ধনী মার্কিন যুক্তরাজ্যে বাড়ি কেনার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁরা তুলনামূলক স্থিতিশীলতার খোঁজে যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে বিনিয়োগ করছেন।

চলতি বছর লন্ডনে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি দামের বাড়ি বিক্রির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিলাসবহুল আবাসন প্রতিষ্ঠান বিউশাঁ এস্টেটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৪টি লেনদেনে মোট ১২৪ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ১৬৬ কোটি ডলারের সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে।

২০২৫ সালের একই সময়ে ২৭টি সম্পত্তি বিক্রি হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল ৯২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই কোটি ডলারের বেশি দামের যত বাড়ি বিক্রি হয়েছে, তার ৩০ শতাংশের ক্রেতা ছিলেন মার্কিন নাগরিকেরা। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এই হার ছিল ২০ শতাংশ।

বিউশাঁ এস্টেটসের মতে, প্রযুক্তি খাতে তৈরি হওয়া বিপুল সম্পদ, অনুকূল ক্রয় পরিস্থিতি ও ট্রাম্প প্রশাসনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা—এই তিন বিষয় ধনী মার্কিনদের লন্ডনের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে আকৃষ্ট করছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সেন্ট জনস উড কার্যালয়ের প্রধান রোজি খালাস্তচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধির কারণে বিপুল সম্পদ তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পকে ঘিরে উদ্বেগের কারণেও কিছু মার্কিন বিনিয়োগকারীকে তাঁদের সম্পদের একাংশ দেশের বাইরে, বিশেষ করে লন্ডনের আবাসন বাজারে সরিয়ে নিতে উৎসাহিত করছে।

এ ছাড়া অনুকূল বিনিময় হার, দর-কষাকষি, ছাড়ের সুযোগ ও ইউরোপে ব্যবসা পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে লন্ডনের দৃঢ় অবস্থান— এসব কারণেও মার্কিন ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। আর্থিক সুবিধার বাইরে সামাজিক জীবন ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থাও তাঁদের কাছে লন্ডনকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার পর প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের সন্তানদেরও সম্প্রতি ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। এত দিন তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিলেন।