চলতি ও আগামী বছরে এশিয়ায় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াবে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া কোভিড-১৯-এর কারণে চীনে লকডাউন তথা বিধিনিষেধ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিন প্রলম্বিত হওয়ার বিষয়টিও এডিবির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর আরেকটি বড় কারণ। এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে এডিবি এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো পূর্বাভাস দিল। প্রতিবারই আগেরবারের চেয়ে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

এডিবি বলছে, চলতি বছরে চীন, ভারতসহ এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিতে সার্বিকভাবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে দেওয়া পূর্বাভাসে সংস্থাটি এশিয়ায় সমন্বিতভাবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছিল। অর্থাৎ মাস তিনেকের মধ্যেই সংস্থাটি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলনের হার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমিয়েছে। অন্যদিকে এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে।

২০২৩ সালে এশিয়া অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে মনে করে এডিবি। এর আগে সংস্থাটি আগামী বছরের জন্য ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

এডিবি বলছে, ‘এশিয়ায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলো বেড়েছে এবং তা মূলত বাহ্যিক বিভিন্ন কারণেই হয়েছে। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়েই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে৷’

বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাটি বলছে, ‘চীনের সর্বশেষ লকডাউন বা বিধিনিষেধ এবং দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে সাপ্লাই চেইন তথা সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এতে এই অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

এডিবির সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় চলতি বছরে গড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে। আগের পূর্বাভাসে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছিল সংস্থাটি। এ ছাড়া আগামী ২০২৩ সালেও এডিবির আগের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রবৃদ্ধি কমে ৭ দশমিক ১ শতাংশে নামবে। এর আগের প্রাক্কলনে দক্ষিণ এশিয়ায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

মূল্যস্ফীতি বাড়বে

এদিকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি বিশ্বের বেশির ভাগ অংশকেই আঁকড়ে ধরেছে। সে জন্য এশিয়ায় মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাও সংশোধন করেছে এডিবি। সংস্থাটি এখন বলছে, চলতি ও আগামী বছরে এশিয়ায় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াবে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের পূর্বাভাসে চলতি ও আগামী বছরে এশিয়ায় যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছিল এডিবি।

সংস্থাটির মতে, এই অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ আছে বটে, তবে তা বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় কম। এই মূল্যায়নটা এশিয়ার জন্য স্বস্তিরই বটে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন