default-image

ক্রেডিট সুসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাঁদের সম্পদের মূল্য ৫০ মিলিয়ন বা পাঁচ কোটি ডলার, তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হলো, বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি ও স্টক মার্কেটের উল্লম্ফন। আর গত দুই বছরে এই অতিধনীর সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। পারিবারিক সম্পদ বৃদ্ধিতে সবার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

এরপরই আছে চীন, কানাডা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। ভারতে গত দুই বছরে আম্বানি ও আদানি গোষ্ঠীর সম্পদ বৃদ্ধির চিত্র দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়—এই দুজন এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর কাতারে। এ সপ্তাহের শুরুতে আদানি কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর কাতারে উঠে এসেছিলেন। অথচ গত দুই বছরে ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অতিধনীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার। এরপর ৩২ হাজার ৭১০ জন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে চীন।

প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০২১ সালের শেষভাগে বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালের সাপেক্ষে সম্পদ বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে মুদ্রার বিনিময় মূল্যের বিষয়টি বাদ দিলে সম্পদ বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ—এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

তবে সব শ্রেণির সম্পদ একই হারে বাড়েনি। শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর সম্পদের পরিমাণ গত দুই বছরে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে তাদের হাতে থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৪ শতাংশ, ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশ। তবে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিচের সারির ৫০ শতাংশ মানুষের সম্পদের পরিমাণ ২০২১ সালে বেড়েছে—১ দশমিক ৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মূলত আবাসনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হলো, কোভিড-১৯-এর সময় আর্থিক সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া। তবে দীর্ঘ মেয়াদে আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উদীয়মান দেশগুলোর উঠে আসা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, গত বছর মার্কিন ডলারধারী মিলিয়নেয়ার বা ১০ লাখ ডলারের মালিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫২ লাখ। ২০২১ সালে এদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ২৫ লাখ, যেখানে যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যাই হচ্ছে ৬ কোটি ৭০ লাখ।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন