তবে সর্বশেষ আগস্ট মাসে যুক্তরাজ্যে সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি প্রায় এক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কিছুটা কমেছে। আগস্টে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এর আগের মাসে জুলাইয়ে ছিল ১০ দশমিক ১ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি খানিকটা কমলেও তাতে অর্থনীতিবিদদের দুশ্চিন্তা কমেনি। তাঁরা মনে করেন, খাদ্যসহ পোশাক ও বিভিন্ন পরিষেবার দাম এবং দোকান ও রেস্তোরাঁর বিল বৃদ্ধি পাওয়ার জেরে আবারও মূল্যস্ফীতির তীব্রতা বাড়তে পারে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, এই বছর মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৩ শতাংশে উঠতে পারে। এ জন্য যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

গৃহস্থালির জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা রোধে ব্রিটিশ সরকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি এখন আগের শঙ্কা অনুযায়ী বেশি হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জ্যাক লেসলি অবশ্য বলেছেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি যুক্তরাজ্যের জীবনযাত্রার ব্যয়ে সংকট ত্বরান্বিত করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ায়ও আশাবাদ দেখা দিয়েছে। ‘জ্বালানি মূল্যের গ্যারান্টি’ শীর্ষক কর্মসূচিও শীতকালীন মূল্যস্ফীতি রোধ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি কিছু সময়ের জন্য আমাদের সঙ্গে থাকবে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য যাঁরা পণ্য–সেবার উচ্চ মূল্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বেড়েছে। এটি যুক্তরাজ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। রাশিয়া ও ইউক্রেন হচ্ছে বিশ্বব্যাপী গম, সূর্যমুখী তেল ও সারের মতো পণ্য সরবরাহের দুটি অন্যতম উৎস। যুদ্ধের কারণে দুই দেশ থেকেই পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

অবশ্য পেট্রল তথা জ্বালানি তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি শিথিল হয়েছে। তারপরও প্রশ্ন হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, সেটি কি এখন অতীত নাকি সেই শঙ্কা রয়ে গেছে? কারণ, তেলের দাম কমলেও মূল্যস্ফীতির অন্য উৎসগুলো বহাল আছে।