এ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আগামীকাল বুধবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার কথা রয়েছে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাদের। বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার আবদুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্প্রতি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রেনে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে এনবিআর। পণ্য ওঠানো-নামানো ও শুল্কায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারীদের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মো. তারেক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এ–সংক্রান্ত চিঠি গত ১১ সেপ্টেম্বর বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের কাছে পৌঁছায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, ভারত থেকে আগত পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে পণ্য খালাসের পরে ওই একই ট্রেনে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত ১৩তম যৌথ শুল্ক দলের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেন্ট্রাল বর্ডার অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স অ্যান্ড কাস্টমস ওই ফিরতি ট্রেনে বেনাপোল-পেট্রাপোল ও গেদে-দর্শনা পথে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে কম খরচে রেলপথ ব্যবহার করে ভারতে পণ্য রপ্তানি করা যাবে।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চার ধরনের ট্রেনে করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—এনএমজি র‌্যাক, বিসিএন ওয়াগান, কনটেইনার ও পার্সেল ট্রেন। গত জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৮টি ট্রেনে করে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য বাংলাদেশে এসেছে। এর মধ্যে শুধু কনটেইনার ট্রেন ভারতে খালি ফিরে যাওয়ার সময় ভাড়া নেওয়া হয়। গত ১০ মাসে ৫৯টি কনটেইনার ট্রেন বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 

ভারত থেকে আসা কনটেইনার ট্রেনে ২০ ফুট লম্বা ৬০টি অথবা ৪০ ফুট লম্বা ৩০টি করে কনটেইনার থাকে। ন্যূনতম ৫০ কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রমের জন্য ৪০ ফুটের কনটেইনারে পণ্যসহ ভাড়া ১২ হাজার ৪৮০ টাকা ও খালি কনটেইনারের ভাড়া ৯ হাজার ১৫০ টাকা। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশনমাস্টার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, আমদানি পণ্যের জন্য ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও রপ্তানি পণ্যের জন্য এখনো কোনো ভাড়া নির্ধারণ করেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।