টেকসই অর্থায়নের একটি সংজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটি বলেছে, টেকসই অর্থায়ন বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে নগদ অর্থ দেওয়া থেকে শুরু করে এমন ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা, যারা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, নারীদের সুবিধা প্রদানসহ সামাজিক মূল্যবোধ ও সুশাসন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে টেকসই অর্থায়নের প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত অর্থকে কার্বন নিঃসরণ বা তথা পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখে—এমন প্রকল্পেও সহায়তা করতে হবে। এর সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) আরেকটু যোগ করে বলেছে, টেকসই অর্থায়নের প্রক্রিয়া টেকসই অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও প্রকল্পগুলোয় দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করে। এটি বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সমন্বিত নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

টেকসই বা পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন হলো আর্থিক প্রবিধান, মান, নিয়ম ও পণ্যের সমষ্টি, যা একটি পরিবেশগত উদ্দেশ্য অনুসরণ করে চলে।

২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে দীর্ঘস্থায়ী বা টেকসই ধারণাটি প্রচার করা হয়েছিল। এতে দেশগুলোকে অবশ্যই ‘নিম্নহারে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও জলবায়ুনিরপেক্ষ উন্নয়নে’ প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর একই বছরে জাতিসংঘ একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‌‘২০৩০ অ্যাজেন্ডা’ গ্রহণ করে। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে জোর দেওয়া হয়।

টেকসই বিনিয়োগগুলোয় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তা নিশ্চিতে বৈশ্বিক অ্যাকাউন্টিং সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস ফাউন্ডেশন টেকসই অর্থায়ন বিষয়টিকে নতুন নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য আন্তর্জাতিক টেকসই স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড গঠন করেছে।

অ্যাসেট ম্যানেজার, তথা সম্পদ ব্যবস্থাপক ফিডেলিটির এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও সুশাসনে জোর দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান বাজারকে ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ১১ শতাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে নেতিবাচক কার্যক্রমতা দেখা গেছে। ১৯৭০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা কোম্পানিগুলোর ওপরই এই সমীক্ষা করা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্ল্যাকরকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহ প্রকোপের সময়ে টেকসই বিনিয়োগ তহবিল থেকে অর্থায়নের সুবিধা নেওয়া প্রতি ১০টির মধ্যে ৮টির বেশি কোম্পানি বেশ ভালো পারফর্ম করেছে।

আর্থিক ওয়েবসাইট মর্নিংস্টারের গবেষণা অনুসারে গত পাঁচ বছরে ইএসজিকে প্রাধান্য দিয়ে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম যেমন বেশি বেড়েছে, তেমনি তাদের শেয়ারধারীরাও উচ্চহারে লভ্যাংশ পেয়েছেন।

টেকসই অর্থায়নের প্রকল্প তথা কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বয়সনির্বিশেষে দুই-তৃতীয়াংশ গ্রাহকই সামাজিক মূল্যবোধ মেনে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর পণ্য বেশি পছন্দ করেন। তবে মিলেনিয়ালস বা সহস্রাব্দের প্রজন্মের ক্ষেত্রে (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) এ হার ৮৩।

সূত্র: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ), বিশ্বব্যাংক, বিবিভিএ।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন