গত শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে টুইটার বলেছে, ‘যেকোনো ব্যবহারকারী এখন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে টুইটারের ব্লু টিক সেবাটি নিতে পারবেন। আমরা এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন করেছি; অর্থাৎ শুধু সেলিব্রিটি, কোম্পানি ও রাজনীতিবিদেরাই নন, এখন থেকে যেকোনো গ্রাহকই তাঁর অ্যাকাউন্টে একটি “নীল চিহ্ন” নিতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে পাঁচটি দেশে অর্থের বিনিময়ে ব্লু টিক সেবা চালু করলেও পর্যায়ক্রমে আরও বেশ কিছু দেশে এই সেবা চালু করা হবে বলে এক ঘোষণায় জানিয়েছে কোম্পানিটি।

টুইটার কেনার পরে মাত্র পাঁচ দিন আগে এক টুইটে ইলন মাস্ক বলেছিলেন, টুইটারে ফ্রির জমানা শেষ। এখন থেকে টুইটারের ব্লু টিকের জন্য খরচ করতে হবে গ্রাহকদের। অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা চাইলেই নিজেদের অ্যাকাউন্টকে ‘ভেরিফায়েড’ করে নিতে পারবেন। এ জন্য প্রতি মাসে পকেট থেকে খসবে কয়েক ডলার।  

মূলত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া, বিনোদন, সাংবাদিকতা, করপোরেট প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ টুইটার ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করতে ব্লু টিক ব্যবস্থাটি চালু করেছিল টুইটার।

এত দিন পর্যন্ত টুইটারে এই ব্লু টিক পাওয়া যেত বিনা মূল্যে। এটি পেতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে আবেদন জানাতে হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে ব্লু টিক দেয় টুইটার। তবে এখন থেকে এই পদ্ধতি পাল্টে যাচ্ছে। টুইটার অ্যাকাউন্টের এই ব্লু টিক কেনা যাবে অর্থ দিয়ে।

গত সপ্তাহে টুইটারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইলন মাস্ক জানিয়েছিলেন, আগামী দিনগুলোতে একাধিক নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হবে টুইটারে। অর্থের বিনিময়ে ব্লু টিক নিবন্ধন দেওয়া তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন এই পরিষেবা নিলে গ্রাহকেরা বেশ কিছু সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে টুইটার। বড় আকারের ফাইল বা অডিও আপলোড করতে পারবেন তাঁরা। পাশাপাশি আগের তুলনায় অনেক ভালো অভিজ্ঞতা পাবেন ব্যবহারকারীরা। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনের পরিমাণও কম থাকবে এখানে।

এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছেন টুইটারের নতুন মালিক ইলন মাস্ক। প্রায় সাড়ে সাত হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি।