ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের ভার ভোক্তা ও কোম্পানিগুলোকেই বহন করতে হচ্ছে: নিউইয়র্ক ফেড
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে ঘন ঘন অবস্থান বদলান। এখন তিনি মূলত শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ করছেন। কার্যত তিনি এখন শুল্কহার কমাচ্ছেন। তারপরও যে শুল্কহার থাকছে, তা আগের চেয়ে বেশি। এর ভার শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ও ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে আমদানি পণ্যের ওপর গড় শুল্কহার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের ধাক্কায় তা বেড়ে হয়েছে ১৩ শতাংশ। বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেক্সিকো, চীন, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে আরোপিত বাড়তি শুল্কের প্রায় ৯০ শতাংশই বহন করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, উচ্চ শুল্কের অর্থনৈতিক বোঝা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের কাঁধেই বর্তাচ্ছে। কেননা শুল্কহার বাড়লেও রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের পণ্যের দাম কমায়নি। তারা আগের মূল্যই ধরে রেখেছে। ফলে অতিরিক্ত শুল্কের ব্যয় আমদানিকারক কোম্পানির ওপরই পড়ছে। কোম্পানিগুলো খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়ে তা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়।
নিউইয়র্ক ফেড স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প যখন এই শুল্ক আরোপ শুরু করেন, তখনো এই প্রবণতা দেখা গেছে। তখনো ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছিল, কিন্তু অর্থনীতিতে অন্য কোনো বড় প্রভাব তেমন একটা দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি গবেষণায় একই বিষয় দেখা গেছে। জার্মানির কেইল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যের দামে শুল্কের পুরো প্রভাবই পড়েছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে। ২ কোটি ৫০ লাখ লেনদেন বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছে, ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলো দাম কমানোর পথে যায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ কমিয়েছে।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ জানিয়েছে, শুল্কের প্রায় শতভাগ ভার আমদানি মূল্যে যুক্ত হয়েছে—অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির চাপ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হচ্ছে।
ওয়াশিংটন–ভিত্তিক করনীতিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে শুল্ক বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের ব্যয় গড়ে এক হাজার ডলার বেড়েছে। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাদের মতে, শুল্ক কার্যত ভোক্তাদের ওপর আরোপিত নতুন ধরনের কর।
এমনকি দাম বাড়ায় মানুষ কম পণ্য কিনলেও সমন্বিত হিসাবে কার্যকর গড় শুল্কহার এখন ৯ দশমিক ৯ শতাংশ—১৯৪৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন মনে করে, এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এ থাকা করছাড়ের সম্ভাব্য সুফল কার্যত নস্যাৎ করে দিতে পারে।