ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা, বিশ্ববাজারে আরও দুর্বল হলো ডলার
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছেছে—এমন খবরে আজ শুক্রবার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলার আরও দুর্বল হয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়েই মার্কিন মুদ্রার মান নিম্নমুখী থাকবে, এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। তবে এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এ খবরে তেলের দাম কমেছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ডলারের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো স্থায়ী সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।
আজ শুক্রবার এশিয়ার লেনদেনে ইউরোর দর হয়েছে ১ দশমিক ১৬৫৩ ডলার, অর্থাৎ সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে পাউন্ডের দর ১ দশমিক ৩৪৪৫ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত আছে।
অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ছিল শূন্য দশমিক ৭১৬৪ ডলার। নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৫৯৪৬ ডলারে ওঠে, অর্থাৎ দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নিরূপণে ডলার ইনডেক্স প্রণয়ন করা হয়। আজ তার মান ৯৮ দশমিক ৯৯৭ পয়েন্ট, অর্থাৎ প্রায় অপরিবর্তিত। এর আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। ফলে টানা দুই সপ্তাহের উত্থান থেমে চলতি সপ্তাহে এই সূচকের মান প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমতে যাচ্ছে।
ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি বলেন, ‘ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট পেছনে পড়ে গেলে আমরা ধারণা করছি, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’
কাস্তেল্লি আরও বলেন, নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদার কারণে সংঘাতের সময় ডলারের মান হারানোর প্রবণতা সাময়িকভাবে থমকে ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী এখনো মার্কিন ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ করতে আগ্রহী। এর অর্থ হলো, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।
এদিকে ডলারের দুর্বলতার কারণে জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে। ডলারের বিপরীতে এখন ১৫৯ দশমিক ২৭ ইয়েন পাওয়া যাচ্ছে। ইয়েনের মানের মনস্তাত্ত্বিক সীমা হচ্ছে ১৬০, অর্থাৎ বাজার সেই সীমা থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছে। অতীতে এই সীমা অতিক্রম করলে জাপানি কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করত।
অন্যদিকে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে এই চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদ হার অপরিবর্তিত রাখবে, অর্থনীতিবিদবিদের এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।