গাড়ি শিল্পে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী কারা

গাড়ি উদ্ভাবনের পর মানবসভ্যতার গতি পাল্টে যায়। মানুষের চলাচলে গতি ও স্বাচ্ছন্দ্য আসে। বিশ্বের সব দেশেই এখন গাড়ির ব্যবহার হয়। ফলে বিশ্বের যেসব বড় কোম্পানি আছে, তাদের মধ্যে গাড়ি কোম্পানিও আছে।

জাপানের টয়োটা, নিশান, জার্মানির ফক্সভাগেন বা হাল আমলের যুক্তরাষ্ট্রের টেসলা—এসব কোম্পানির নাম মানুষের মুখে মুখে। একসময় গাড়ি ছিল জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি।

বাস্তবতা হচ্ছে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের মূল উৎস বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলা। তাঁর আরও অনেক ব্যবসা আছে, কিন্তু টেসলার কথাই মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। দেখে নেওয়া যাক, ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকা অনুসারে অটোমোবাইল খাতের শীর্ষ ১০ ধনী কারা।

ইলন মাস্ক, কোম্পানি: টেসলা, সম্পদ: ৭১৭.৯০ বিলিয়ন

ইলন মাস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে অটোমোবাইল খাতেরও শীর্ষ ধনী। বিশ্বের ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে বর্ণিল চরিত্রের অধিকারী এই ব্যক্তি নানাভাবেই আলোচিত-সমালোচিত। ব্যক্তিগত সম্পদমূল্যের দিক থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়েই যাচ্ছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। এবার ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর সম্পদমূল্য ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। টেসলার পাশাপাশি মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি এক্স এআইয়ের মূল শেয়ারহোল্ডার তিনি।

রবিন জেং, কোম্পানি: সিএটিএল, সম্পদ: ৫৬.৯ বিলিয়ন ডলার

রবিন জেং

এখন পৃথিবীতে চলছে ইভি বা বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগ। এ গাড়ির মূল জ্বালানি হলো ব্যাটারিতে সঞ্চিত শক্তি। সেই ব্যাটারি সরবরাহ করে কনটেমপোরারি অ্যামপারেক্স টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী এখন গাড়িশিল্পের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। হংকং ও শেনঝেনে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানি বিএমডব্লিউ, গিলি ও টেসলার ব্যাটারি সরবরাহ করে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ব্যাটারি কারখানা স্থাপনে ফোর্ডের সঙ্গে চুক্তি করে সিএটিএল। প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য ছিল ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এ প্রকল্পের আকার ছোট করা হয়েছে।

সুসান ক্লাটেন, কোম্পানি: বিএমডব্লিউ, সম্পদ: ২৯ বিলিয়ন ডলার

সুসান ক্লাটেন

জার্মান গাড়ি কোম্পানি বিএমডব্লিউর ১৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক এই সুসান ক্লাটেন। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে এই বিশ্বখ্যাত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার। সেই সঙ্গে নিজে অর্থনীতিবিদ ও এমবিএ ডিগ্রিধারী হিসেবে তিনি পিতামহের প্রতিষ্ঠিত আটলান্টা এজি কোম্পানিকে বৈশ্বিক ওষুধ কোম্পানিতে পরিণত করেছেন। তিনি এই কোম্পানির একক মালিক। একই সঙ্গে ডিজিটাল আইডেনটিটি ও নিরাপত্তা ফার্ম এনট্রাস্টে তাঁর শেয়ার আছে। সেই সঙ্গে কার্বন ও গ্রাফাইট উৎপাদনকারী কোম্পানি এসজিএল গ্রুপেও তাঁর শেয়ার আছে। ধনীদের সামগ্রিক তালিকায় তাঁর অবস্থান ৭৮তম।

স্টিফেন কুয়ান্ড, কোম্পানি: বিএমডব্লিউ, সম্পদ: ২৮ বিলিয়ন ডলার

স্টিফেন কুয়ান্ড

স্টিফেন কুয়ান্ড বিএমডব্লিউ কোম্পানির ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক। স্টিফেন বিএমডব্লিউর পর্যালোচনা পর্ষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি অর্থনীতি ও প্রকৌশলে স্নাতক। শিল্প খাতে তাঁর পরিবারের যে ঐতিহ্য, তা ধরে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি। সেই সঙ্গে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানি হিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা কোম্পানি এনট্রাস্ট, লজিস্টিকস কোম্পানি লগউইনের শেয়ারহোল্ডার।

হুয়াং শিলিন, কোম্পানি: সিএটিএল, সম্পদ: ২৬.৩ বিলিয়ন ডলার

হুয়াং শিলিন

বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান কনটেমপোরারি অ্যামপারেক্স টেকনোলজির (সিএটিএল) সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হুয়াং শিলিন। তিনি ২০২২ সালে সিএটিএলের পর্ষদ থেকে বেরিয়ে আসেন। হংকং ও শেনঝেনে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানি বিএমডব্লিউ, গিলি ও টেসলার ব্যাটারি সরবরাহ করে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ব্যাটারি কারখানা স্থাপনে ফোর্ডের সঙ্গে চুক্তি করে সিএটিএল। প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য ছিল ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এ প্রকল্পের আকার ছোট করা হয়েছে।

আর্নেস্ট গার্সিয়া, দ্বিতীয়, কোম্পানি: কারভানা, সম্পদ: ২৪.৪ বিলিয়ন ডলার

আর্নেস্ট গার্সিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রির কোম্পানি কারভানার বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার এই আর্নেস্ট গার্সিয়া। সেই সঙ্গে তারা গাড়ির ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রির চতুর্থ বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা ড্রাইভ টাইম অটোমোটিভের মালিক কারভানার উদ্যোক্তা মূলত গার্সিয়ার ছেলে আর্নেস্ট গার্সিয়া তৃতীয়। প্রথমে ড্রাইভ টাইমের সাবসিডিয়ারি হিসেবে কারভানা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তীকালে এই কোম্পানি পৃথক হয়ে যায়।

ওয়াং চুয়ানফু, কোম্পানি: বিওয়াইডি, সম্পদ: ২৩.১ বিলিয়ন ডলার

ওয়াং চুয়ানফু

এখন চলছে বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগ। সেই প্রতিযোগিতায় গত বছর টেসলাকে হারিয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে চীনের বিওয়াইডি। ২০২৫ সালে তাদের গাড়ি বিক্রি হয়েছে টেসলার চেয়ে বেশি। সেই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ওয়াং চুয়ানফুও সেই সঙ্গে ধনীদের কাতারে ওপরে উঠে এসেছেন। ১৯৯৫ সালে রিচার্জেবল ব্যাটারি কোম্পানি হিসেবে বিওয়াইডির যাত্রা শুরু হয়। এরপর তার উত্থান চলছে। বিনিয়োগ গুরু হিসেবে খ্যাত ওয়ারেন বাফেট ২০০৮ সালে বিওয়াইডির ১০ শতাংশ শেয়ার কেনেন ২৩ কোটি ডলারে। গত বছর সেই শেয়ার তিনি কয়েক শ কোটি ডলারে বিক্রি করেন।

এরিক লি, কোম্পানি: গিলি অটোমোবাইল হোল্ডিংস, সম্পদ: ২১.৬ বিলিয়ন ডলার

এরিক লি

গিলি অটোমোবাইল হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান এরিক লি এই খাতের ৮ম শীর্ষ ধনী। সুইডেনের ভলভো, ব্রিটেনের লোটাস কার ও অ্যাস্টন মার্টিনে এই গিলি কোম্পানির বিনিয়োগ আছে। সেই সঙ্গে এই কোম্পানি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড জিকর ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি অধিগ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে জিকরের বাজারমূল্য ৬৮০ কোটি ডলারের ভিত্তিতে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালে জিকর নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।

লু জিয়ংইয়ং, কোম্পানি: বিওয়াইডি, সম্পদ: ১৮.১ বিলিয়ন

লু জিয়ংইয়ং

অটোমোবাইল খাতের এই ধনী এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি বিওয়াইডির ভাইস চেয়ারম্যান। ১৯৯৫ সালে চাচাতো ভাই ওয়াং চুয়ানফুর সঙ্গে মিলে ব্যাটারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সেই কোম্পানি এখন বিওয়াইডি—বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি। এর পাশাপাশি লু নিজের ব্যবসাও দেখাশোনা করেন। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইয়ঙ্গি ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিং গ্রুপের মালিক তিনি। বিভিন্ন ব্যবসায় তাঁর বিনিয়োগ আছে।

১০

শহীদ খান, কোম্পানি: ফ্লেক্স-এন গেট, সম্পদ: ১৪.৬ বিলিয়ন ডলার

শহীদ খান

পাকিস্তানি এই প্রকৌশলী একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অটো যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ফ্লেক্স-এন গেটের কর্মী ছিলেন। ১৯৮০ সালে নিজের নিয়োগদাতার কাছ থেকে এই কোম্পানি কিনে নেন তিনি। বিশ্বের ৭৬টি কারখানায় এখন তাদের ২৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। তিনি ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলের দল জ্যাকসনভিল জাগুয়ার কিনে নেন। একই সঙ্গে কানাডারা টরন্টো শহরের ফোর সিজনস হোটেলের মালিক।