ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ইলন মাস্ককে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র, যেভাবে দেখানো হলো তাঁকে
ইলন মাস্ককে নিয়ে নির্মিত অ্যালেক্স গিবনির প্রামাণ্যচিত্র ‘মাস্ক’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে ছবিতে মাস্ককে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রায় পৌনে চার ঘণ্টার ছবিতে টেসলা ও স্পেসএক্সের মালিক মাস্কের ব্যবসায়িক উত্থান, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিজীবন ও ক্ষমতার বিস্তার তুলে ধরা হয়েছে।
অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির এই ছবির দৈর্ঘ্য ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। মাস্ক নিজে প্রামাণ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেননি। সে জন্য তাঁর পুরোনো বক্তব্য, সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য ফুটেজ ব্যবহার করে কৃত্রিম অবয়ব তৈরি করেছেন গিবনি।
দ্য হলিউড রিপোর্টারের সমালোচক ডেভিড রুনি ছবিটিকে ‘সৃজনশীল প্রতিভার নিদর্শন’ বলে প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, ছবিতে এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যেসব বিষয় দর্শকেরা আগে থেকেই কমবেশি জানেন। তবে গিবনি সেগুলো এমনভাবে সাজিয়েছেন, দর্শকদের জন্য যা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। ছবিতে মাস্ককে নির্লজ্জ দাম্ভিক প্রকৃতির মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ডেডলাইনের সমালোচক ম্যাথিউ কেরি ছবিটির ব্যাপ্তি নিয়ে আপত্তি তোলেননি। বরং তাঁর মতে, সমকালীন জীবন ও রাজনীতিতে মাস্কের যে বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে, তা বোঝাতে প্রাম্যাণ্যচিত্রটির বড় হওয়া উচিত।
কেরির মতে, ছবিতে মাস্ককে নীতিনৈতিকতার তোয়াক্কা না করা, ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও আত্মমগ্ন একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বাবা ছিলেন কঠোর স্বভাবের। ছেলের সঙ্গে বেশ দূরত্বও ছিল তাঁর। কেরির মতে, বিলিয়নিয়ার মাস্কের মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরাই এ প্রামাণ্যচিত্রের সবচেয়ে বড় সফলতা।
আরেক সমালোচক রায়ান লাতানজিও মাস্কের বাবা এরল মাস্কের সাক্ষাৎকারের বিশেষ প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বাবার সঙ্গে মাস্কের জটিল সম্পর্ক এবং পরবর্তীকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর যে ঘনিষ্ঠতা—প্রামাণ্যচিত্রে এ দুটি বিষয়ের মধ্যে যোগসূত্র দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মাস্কের সমালোচনা শুরু থেকেই
প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে মাস্কের আপত্তি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রামাণ্যচিত্রটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক প্রচারণা বলে মন্তব্য করেন। পরে নির্মাতা গিবনিকে ব্যক্তিগতভাবেও আক্রমণ করেন তিনি।
ভেনিসে ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পরও মাস্ক তাঁর অবস্থান বদলাননি। প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি ম্যাগাজিনটির বর্তমান অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কোথাও পিপলের একটি কপিও দেখেননি।
মাস্ককে নিয়ে আরও ছবি আসছে
চলতি মৌসুমের চলচ্চিত্র উৎসবগুলোয় বিলিয়নিয়ারদের নিয়ে নির্মিত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। পুরস্কারের মৌসুম সামনে রেখে এসব ছবি নিয়ে প্রত্যাশাও বেশ বেশি।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর ‘মাস্ক’ আগামী অক্টোবরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে মাস্ককে নিয়ে এ বছর আরও চলচ্চিত্র মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।
লুকা গুয়াদানিনো পরিচালিত ‘আর্টিফিশিয়াল’ ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে অক্টোবর মাসে, নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে। প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি কবে মুক্তি পাবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ছবিটিতে ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যানকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে অল্প সময়ের জন্য সরিয়ে দেওয়ার ঘটনার নাট্যরূপ দেওয়া হয়েছে। ছবিতে মাস্কের চরিত্রে পার্শ্বভূমিকায় অভিনয় করবেন আইকে বারিনহোল্টজ। অল্টম্যানের চরিত্রে থাকছেন অ্যান্ড্রু গারফিল্ড।
অস্কারজয়ী ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’–এর সিকুয়েল ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’ আগামী মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এতে মেটার বিলিয়নিয়ার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেরেমি স্ট্রং।
এদিকে কৌতুকশিল্পী নাথান ফিল্ডারের পরিচালনায় নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ গত রোববার টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসবে আকস্মিকভাবে প্রদর্শনের পর ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ছবিটিতে সাবেক বিলিয়নিয়ার এলিজাবেথ হোমসের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। থেরানোসের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ফেডারেল কারাগারে সাজা ভোগ শুরু করার আগের সময় নিয়ে ছবিটি নির্মিত। হোমসকে নিয়ে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মাস্ক
ফোর্বসের হিসাবে, আজ বুধবার সকালে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৪২ বিলিয়ন বা ৯৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার। তিনিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। অনেক দিন ধরেই তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী। গত জুন মাসে তাঁর সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
মাস্কের মহাকাশবিষয়ক কোম্পানি স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। বর্তমানে স্পেসএক্সে তাঁর মালিকানা প্রায় ৩৮ শতাংশ; টেসলায় প্রায় ১১ শতাংশ।