যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নেতিবাচক

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে। ঋণমান যাচাইকারী বৈশ্বিক সংস্থা মুডি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ‘স্থিতিশীল’ অবস্থা থেকে ‘নেতিবাচক’ পর্যায়ে চলে গেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মুডি বলছে, যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমেছে, বেড়েছে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ। তবে এই সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরেই কোনো কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দেশটির নীতিনির্ধারকেরা। বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে বর্তমানে বেশি পরিমাণে ঋণ নিতে চাচ্ছে দেশটি। তবে সেই ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য ও নীতিনির্ধারণের সক্ষমতা নিয়ে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এসব কারণে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কমেছে বলে জানিয়েছে মুডি।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যেন থামছেই না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পদত্যাগের পর দেশটির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। তবে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে অনাস্থার মুখে পড়েন তিনি। টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেড় মাসের মাথায় গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন ট্রাস। নতুন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাসহ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মান কমিয়ে দিয়েছে।

গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতির শক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মান’ নির্ধারণ করে ঋণমান যাচাইকারী সংস্থাগুলো। এই মান থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট দেশ ও সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি না।

সাধারণত ভালো মান বা রেটিং পেলে ঋণের সুদের হার কম হয়, ঋণ পেতেও কোনো সমস্যা হয় না। অন্যদিকে কোনো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মান নেতিবাচক হলে ঋণ পেতে সমস্যায় পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট দেশকে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ‘নেতিবাচক’ মান নির্ধারণ করেছে মুডি। অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে নেতিবাচক মান পেলেও এখন পর্যন্ত দেশটির ‘ঋণমান বা ক্রেডিট রেটিং’ একই রেখেছে মুডি। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অনেক শক্তিশালী। দেশটি করোনা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিতে পেরেছে। এ ছাড়া বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের দিক থেকেও দেশটি ভালো অবস্থানে আছে। এ কারণে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রার মান এখনো অপরিবর্তিত আছে।

যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান কার্যালয় জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে দেশটির ঋণের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন (১ বিলিয়নে ১০০ কোটি) পাউন্ড ছাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণার চেয়ে এ ঋণের পরিমাণ তিন বিলিয়ন বেশি। বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই বিলিয়ন পাউন্ড বেশি সুদ দিতে হয়েছে দেশটিকে। ১৯৯৭ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ সুদ পরিশোধ করেছে দেশটি।

যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে যা কিছু প্রয়োজন, তা করবে তাঁর সরকার। এ কারণে তিনি তাঁর পূর্বসূরি কোয়াজি কোয়ার্টাঙ ঘোষিত বেশ কয়েকটি আর্থিক নীতি পাল্টানোর ঘোষণা দিয়েছেন।