আবারও টুইটারে কর্মী ছাঁটাই

টুইটার কার্যালয়
রয়টার্স

খুদে ব্লগ লেখার সাইট টুইটারের মালিকানা ইলন মাস্কের হাতে যাওয়ার পর থেকে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে সেখানে। বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে যে ছাঁটাইয়ের মচ্ছব চলছে, তা শুরু হয়েছে মাস্কের হাত ধরেই। সে ধারাবাহিকতায় আরও ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে টুইটার।
রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, মাস্কের প্রতিষ্ঠান টুইটারে এবার অন্তত ২০০ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এবার কোপটা পড়েছে পণ্য ব্যবস্থাপক, ডেটাবিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের ওপর। তবে রয়টার্স এ বিষয়ে টুইটারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

গত মাসেই ইলন মাস্ক জানিয়েছিলেন, টুইটারে তখন ২ হাজার ৩০০ কর্মী কাজ করতেন।

এর আগে গত নভেম্বর মাসে টুইটার একসঙ্গে ৩ হাজার ৭০০ কর্মী ছাঁটাই করে। অন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মতো টুইটারও তখন বলে, রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় এই ছাঁটাই করতে হচ্ছে।

রয়টার্স বলেছে, ইলন মাস্ক অধিগ্রহণের পর থেকেই আর্থিক সংকটে ভুগছে টুইটার। তাঁর পাগলামির কারণে ব্র্যান্ড মূল্য কমেছে টুইটারের। অনেক বিজ্ঞাপনদাতা প্ল্যাটফর্মটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সে কারণেই মূলত আয় কমেছে। গত এক বছরে টুইটারের আয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাইসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আয় বাড়াতে ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশনের মতো আলোচিত ও সমালোচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাস্ক। এত সমালোচনার মধ্যেই আবার কর্মী ছাঁটাই করেছে টুইটার।

টুইটার অধিগ্রহণের পর এখন পর্যন্ত আটবার কর্মী ছাঁটাই করেছেন মাস্ক। যার মধ্যে আছে বিজ্ঞাপন, প্রযুক্তি ও টুইটারের মূল অ্যাপ বিভাগের কর্মীরাও। টুইটার অধিগ্রহণের পরপরই কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে দুই হাজারের নিচে নামিয়ে আনার কথা বলেছিলেন তিনি।

সম্প্রতি খরচ কমাতে ভারতের তিনটি কার্যালয়ের মধ্যে দুটি বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার। সেখানকার কর্মীদের আপাতত বাড়ি থেকেই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক কর্মী চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন।

তার আগে টুইটারের সিঙ্গাপুরের প্রধান কার্যালয় বন্ধ করার নির্দেশ দেন ইলন। কর্মীদেরও বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হয়, এশিয়ায় টুইটারের সদর দপ্তর কি বন্ধ হওয়ার মুখে, যদিও সে বিষয়ে টুইটার প্রতিক্রিয়া দেয়নি।