ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: রয়টার্স

যে কথা, সেই কাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে, এমন কথা বলেছিলেন তিনি।

এবার জানা গেল, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করেছে। ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করা হয়েছে। মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার আরও তেল বিক্রি করা হবে। খবর সিএনএনের

ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে কী করা হবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প আহ্বান জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প চাঙা করতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হোক। যদিও তেল কোম্পানিগুলো এ বিষয়ে সতর্ক। তারা মনে করছে, বড় ধরনের বিনিয়োগে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ভেনেজুয়েলায় ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সমস্যা কী, সে বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প বিনিয়োগযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, এই বিনিয়োগ থেকে কী পরিমাণ লভ্যাংশ পাওয়া যাবে, তা বোঝার আগেই আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।’

লাতিন আমেরিকার এই সংকটকবলিত দেশে ব্যবসা করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ বৈঠকে তেল কোম্পানিগুলো কার্যত কোনো অঙ্গীকার করেনি।

বুধবার প্রথম তেল বিক্রির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স। যদিও এই বিবৃতি অস্পষ্ট। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি সহজ হয়েছে।

একই দিন রয়টার্স জানায়, কানাডার মতো অন্যান্য দেশের তেলের তুলনায় কম দামে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

কত মজুত আছে ভেনেজুয়েলায়

এনার্জি ইনস্টিটিউটের হিসাব বলছে, বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ ভেনেজুয়েলার হাতে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত আছে ভেনেজুয়েলায়। খবর বিবিসি।

একসময় ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। হুগো চাভেজ ক্ষমতায় আসার পর তেলক্ষেত্র জাতীয়করণ করেন। অনেক চুক্তি নতুন করে করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও ভেনেজুয়েলার তেলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞা জারির পর সম্পর্ক বদলে যায়। এখন দেশটির তেলের প্রধান গন্তব্য চীন।

বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাবশালী ছিল ভেনেজুয়েলা; কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় আগে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে—দেশটির তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের শাসনামলে। নিকোলা মাদুরোর শাসনে সেই পরিস্থিতি আরও গভীর হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ তেলশিল্প কার্যত ভেঙে পড়েছে, ফলে বৈশ্বিক সরবরাহের হিসাবে ভেনেজুয়েলা এখনো ঠিক ‘শূন্যের কোঠায়’ না পড়লেও বাস্তবে তারা প্রায় গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

১৯৭০-এর দশকে প্রতিদিন সাড়ে ৩ মিলিয়ন বা ৩৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল উত্তোলন করত দেশটি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। দেশটির দৈনিক উৎপাদন কমতে কমতে ২০২০ সালে মাত্র পাঁচ লাখ ব্যারেলে এসে ঠেকে।

এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন ১০ লাখ ব্যারেলের সামান্য বেশি। এর বড় অংশই দেশটির নিজস্ব চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় বৈশ্বিক বাজারের ১ শতাংশের কম, যে বাজারের আকার এখন দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি।