রাশিয়ায় রুবলের পতন ঠেকাতে সুদের হারে বড় বৃদ্ধি
রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দরপতন ঠেকাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট হারে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ১৭ মাসের মধ্যে রুবলের সর্বোচ্চ দরপতনের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর দিয়েছে।
সোমবার সকালে ডলারের বিপরীতে রুবলের মান ১০০ পেরিয়ে গেলে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এক বিশেষ সভা আহ্বান করে। সেখানে তারা নীতি সুদহার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১০০ হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য মান; রুবলের বড় দরপতন হলে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নড়াচড়া শুরু হয়, এবার ঠিক তা–ই হয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির বিভিন্ন সূচক গত তিন মাসে ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে, যদিও রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারের তেজ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ–ও বলছেন, পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হবে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ অর্থনীতিবিষয়ক অধ্যাপক কনস্ট্যান্টিন সোনিন গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘পুতিনের মৃত্যু বা ক্ষমতা ত্যাগ করার আগপর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলবে, সেই সঙ্গে রাশিয়ার বাজেট ঘাটতিও বাড়তে থাকবে। সে কারণে রুবলের মান ধারাবাহিকভাবে কমছে।’
গত সপ্তাহে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশটির চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত ২৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে; আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৮৫ শতাংশ কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এলভিরা নাবিউলিনা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে রুবলের দর ধরে রেখেছিলেন। অর্থনীতিও একেবারে খারাপ করেনি। কিন্তু এখন তিনি রুবলের দরপতন ঠেকাতে পারছেন না।
চলতি বছর এ পর্যন্ত রুবলের ২৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে এবং আরও বাড়বে। এই বাস্তবতায় রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য বিদেশি মুদ্রা কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে রাশিয়ার মুদ্রাবাজারের অস্থিতিশীলতা কমবে। বিদেশি মুদ্রা কেনা হলে সাধারণত স্থানীয় মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পায়; পরিণামে তার মান পড়ে যায়।
চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেলের দাম পড়ে যাওয়া এবং রাশিয়ার তেলের দাম বেঁধে দেওয়ার কারণে দেশটির তেল খাতের রাজস্ব কমছে। তবে গত বছর দেশটির আমদানি কমে যাওয়ার কারণে বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২১ বিলিয়ন বা ২২ হাজার ১০০ কোটি ডলারে। গত জুন মাসে পুতিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পর দেশটির অনেক মানুষ বিদেশি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করেছেন—এসব কারণে রুবলের দরপতন হচ্ছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদে বলা হয়েছে।
স্বল্প মেয়াদে রুবলের দরপতন রাশিয়ার জন্য মন্দ নয় বলে মনে করেন অনেকে। রাশিয়া বিদেশি মুদ্রায় অনেক দেশের কাছে তেল বিক্রি করছে; রুবলের দরপতন মানে রপ্তানি আয় বাড়বে। কিন্তু মুদ্রার দরপতনের কারণে অর্থনীতি ও মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির হার।
১৯৯৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় দেশটির মুদ্রার যে অবস্থা হয়েছিল, সেই স্মৃতি অনেকের মনে আবার জেগে উঠতে শুরু করেছে।