ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিডিয়া কোম্পানিগুলোর লোকসান প্রায় ২৪ কোটি ডলার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন, অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
গণমাধ্যম ব্যবসার বাইরে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পর কোম্পানিটির এই লোকসান হয়েছে।
এই গ্রুপের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল। ট্রাম্প মিডিয়া জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ে যে পরিমাণ লোকসান হয়েছিল, এবার হয়েছে তার ১০ গুণের বেশি।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ট্রাম্প মিডিয়ার আয় হয়েছে ১৭ লাখ ডলার, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৯ শতাংশ বেশি। তবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে তাদের।
ট্রাম্প মিডিয়া জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে নগদ অর্থ, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ ও ডিজিটাল মুদ্রাসহ আর্থিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯০ কোটি ডলার।
গ্রুপটি জানিয়েছে, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসায় আবারও মনোযোগ দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে যে সেবা চালু করছে ট্রাম্প মিডিয়া, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই সেবার গ্রাহকেরা ট্রুথ সোশ্যালে প্রভাবশালী ব্যবহারকারীদের এমন পোস্ট আগে দেখতে পারবেন, যেসব পোস্টের প্রভাব বাজারে পড়তে পারে।
গ্রুপের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেভিন ম্যাকগার্ন সোমবার বলেন, ইতিমধ্যে ১০ জনের বেশি গ্রাহক এই সেবায় যুক্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে আরও মন্তব্যের জন্য ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
সাধারণত ব্যবসা সম্প্রসারণ করলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ব্যবসা সম্প্রসারণ করে তারা উল্টো ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের মতো বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে ট্রাম্প মিডিয়া।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ১০ এক্স রিসার্চের বিশ্লেষক মার্কাস থিয়েলেন বলেন, ট্রাম্প মিডিয়া মূলত গণমাধ্যমকেন্দ্রিক ক্রিপ্টোকারেন্সিধারী কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। তাদের যত লোকসান হয়েছে, তার বড় অংশ এই কৌশলের কারণে।
থিয়েলেন বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসার বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো অন্যান্য খাতেও তারা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। তবে এসব নতুন ব্যবসা থেকে এখনো উল্লেখযোগ্য আয় হয়নি।
ট্রাম্প প্রায়ই এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ঘোষণা দেন। গত জুলাই মাসে ট্রাম্প মিডিয়া ঘোষণা দেয়, ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্ট ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ীদের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার সেবা চালু করা হবে। ফলে এই সেবার গ্রাহকেরা শেয়ারসহ বেশি লেনদেন হওয়া অন্যান্য সম্পদ কেনাবেচায় অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা এখনো ট্রাম্প মিডিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারের মালিক। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন কোম্পানি আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে ট্রাম্প মিডিয়া বলেছে, এই সেবা আয়ের নতুন উৎস হতে পারে বলে তারা আশা করছে।
গ্রুপের অন্তর্বর্তী সিইও কেভিন ম্যাকগার্ন বলেন, ‘এই অগ্রগতিতে আমি উৎসাহিত। আগামী প্রান্তিকে আমাদের অগ্রগতি সম্পর্কে শেয়ারহোল্ডারদের আরও নিয়মিতভাবে জানানো হবে। আমরা এখন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছি।’