মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে

ছবি: রয়টার্স

ইরানে প্রথম হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। এরপর সেই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর উত্তাপ লেগেছে সুদূরের যুক্তরাষ্ট্রেও। যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও ভুগতে শুরু করেছেন।

যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের খুচরা দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রতি গ্যালন পেট্রলের (৩.৭৮ লিটার) দাম ৪ মার্কিন ডলারের দিকে ছুটছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালালেও ফল পাননি। বরং পেট্রলের খুচরা দাম দিন দিন বাড়ছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর সময় থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৯০ সেন্ট বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যানুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে পাম্পে পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলার ৮৮ সেন্টে ওঠে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পাম্পে এটির দাম আরও বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ তথা আগাম কেনাবেচায় দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে ৯৬ দশমিক ১৪ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ ব্যারেলপ্রতি দাম বেড়েছে ৩০ ডলার।

জ্বালানি তথ্যসংক্রান্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির বিশ্লেষক প্যাটরিক ডি হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এখন মনে হচ্ছে, প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম আগামী সপ্তাহে ৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং ৪ দশমিক ১০ ডলার বা তারও ওপরে যেতে পারে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পেট্রলের খুচরা দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছুঁয়েছিল ২০২২ সালের আগস্টে। পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার খরচের চাপে থাকা ভোক্তাদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। পাম্পে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক মাথাব্যথায় পরিণত হয়েছে। এর কারণ, আগামী নভেম্বরে মধ্যমেয়াদি নির্বাচনে কংগ্রেসে অল্প ব্যবধানে হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ধরে রাখতে চায় দলটি।

গত নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানির দাম কমানো এবং তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বাজার অস্থিরতা, শুল্কনীতি পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক অশান্তি বেশি দেখা গেছে।

জ্বালানির দাম কমাতে গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনসংক্রান্ত জোনস অ্যাক্ট ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে। এর ফলে অস্থায়ীভাবে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে জ্বালানি, সার ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করতে পারবে। যদিও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আইনি ছাড়ের প্রভাব মূল্যবৃদ্ধির ওপর খুবই সীমিত হবে।

গ্যাসবাডির ডি হান বলেছেন, ‘জোনস অ্যাক্টের ছাড়ের কারণে পাম্পে হঠাৎ দাম কমার আশা যাঁরা করেছেন, তাঁরা হতাশ হবেন।’

ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রীষ্মকালীন পেট্রলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে। দেশটিতে গ্রীষ্মকালের জন্য ব্যবহৃত পেট্রল এমনভাবে পরিশোধন করা হয়, যাতে ধোঁয়া কম হয়।

ডি হান বলেছেন, এই ছাড় খুচরা পেট্রলের দাম থেকে প্রতি গ্যালন ১০-২০ সেন্ট কমাতে পারে। বিশেষ করে শিকাগো, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসির মতো শহরে।