ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবার প্যান–ইউরোপিয়ান স্টক্স ৬০০ সূচক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ, ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ ও জার্মানির ড্যাক্স সূচক ১ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। আগের দিন ইউরোপের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স সূচক ও প্যারিসের সিএসি সূচক যথাক্রমে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ ও শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচকগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবার ডাউ জোন্স ১ দশমিক ২৯ শতাংশ, নাসড্যাক ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। আগের দিন বুধবার ডাউজোন্স ১ দশমিক ২৩ শতাংশ ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছিল। যদিও নাসড্যাক ১০০ ফিউচার সূচক শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছিল।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করেই চীনের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা দেখা দেয়। পেলোসি গত মঙ্গলবার তাইওয়ান সফরে যান। সেখানে তিনি জানান, ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে ছেড়ে যাবে না—গতকাল তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আশ্বাস দেন।
পেলোসি বলেন, ‘আজ আমাদের প্রতিনিধিদল তাইওয়ানে এসেছে এটা স্পষ্ট করে দিতে যে আমরা তাইওয়ানের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ত্যাগ করব না। আমিও এই প্রতিনিধিদলের একজন গর্বিত সদস্য। আমরা আমাদের স্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তাইওয়ানের প্রতি আমেরিকার সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আমরা আজ সেই বার্তাটিই এখানে নিয়ে এসেছি।’

এদিকে ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের তীব্র বিরোধিতা করে এসেছে চীন। তারা তাইওয়ানের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে চীনের বাজারে তাইওয়ানের রপ্তানিনিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা দীর্ঘ হবে। এতে তাইওয়ান বিপাকে পড়তে পারে। কারণ, চীনের সঙ্গে তাদের গভীর বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। তাইপের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারই হলো চীন। তাদের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশই হয়ে থাকে চীনের সঙ্গে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার তাইওয়ান থেকে লেবুজাতীয় ফল ও দুই ধরনের মাছ আমদানি তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। শুধু তা-ই নয়, দ্বীপদেশটিতে নিজেদের বালু রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে চীন। আগের দিন মঙ্গলবার তাইওয়ানি বিস্কুট, কনফেকশনারিসহ অন্যান্য পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বেইজিং।
তেলের দাম বেড়েছে

এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো পণ্যটির উচ্চমূল্য কমাতে উৎপাদন কিছুটা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে তারা কাজটি ধীরে ধীরে করবে। এসব দেশ আগামী সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে প্রতিদিন আরও এক লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। বুধবার ওপেক সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ওপেকের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার এক দিনের মধ্যে গতকাল বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বেড়েছে। এদিন ইউরোপভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ব্যারেলপ্রতি দাম ২৭ সেন্ট বেড়েছে। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক শূন্য ৮ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটরি (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬৫ সেন্ট বেড়েছে। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৩১ ডলার। আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছিল।


সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, বিবিসি ও সিএনবিসি।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন