২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কা এই বছর আর্থিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত হয়। দেশটি বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়ে। যে কারণে বিদেশ থেকে জ্বালানি, সার, ওষুধসহ প্রধান আমদানি পণ্যগুলো আনতে পারেনি দেশটি।

করোনা মহামারির আগে শ্রীলঙ্কা মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রার জন্য পর্যটন খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দুই–আড়াই বছর ধরে চলা কোভিডের কারণে পর্যটকের আগমন বন্ধ থাকায় বিদেশি মুদ্রার সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।

বিশেষ করে বছরের পর বছর আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও চীনের কাছ থেকে উচ্চসুদের ঋণ নেওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। চলতি বছরের শুরুতে দেশটি ঋণখেলাপিহয়ে পড়ে।

এরই মধ্যে খাদ্য ও জ্বালানিসংকট শুরু হয়। ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে না পারার অভিযোগ তুলে জনগণ রাজপথে নেমে আসে। ফলে রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষে জুলাই মাসে পদত্যাগ করার আগে বিদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগস্টে বলেছিল যে মূল্যস্ফীতি সহনীয় হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছে। গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা সরকারের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, সর্বশেষ তিন মাস জুন–আগস্টে তাদের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

এই মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। ভারতও শ্রীলঙ্কার ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

তারা শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেবে। এর আগে শ্রীলঙ্কাকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল ভারত। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার ১২০ কোটি ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ স্থগিত করেছে এবং ঋণে সাড়ে ৫ কোটি ডলারের সার নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পি নন্দলাল ভিরাসিংহে গত জুনে বলেছিলেন, অর্থনৈতিক দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব ছিল। শ্রীলঙ্কা যদি আর্থিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তড়িঘড়ি করে আইএমএফের কাছে যেত, তাহলে অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে পারত।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন