নিউইয়র্ক টাইমসে ৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করল বাফেটের বার্কশায়ার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসে ৩৫ কোটি ডলার নতুন বিনিয়োগ করেছে ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া ত্রৈমাসিক শেয়ারতালিকা থেকে বার্কশায়ারের এই বিনিয়োগের কথা জানা যায়। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে বার্কশায়ার এ বিনিয়োগ করে। অর্থাৎ যে প্রান্তিক ছিল ওয়ারেন বাফেটের শেষ কার্যকাল। একই সময়ে কোম্পানিটি তেল খাতের বড় কোম্পানি শেভরনে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা ও অ্যাপলের কিছু শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে তারা। খবর এমএসএন।
বার্কশায়ার ও ওয়ারেন বাফেট বিনিয়োগের জন্য বিখ্যাত। বিনিয়োগবিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে বাফেট সাধারণত ভুল করেননি। কিন্তু এই বিনিয়োগের বিশেষত্ব হলো, ছয় বছর আগে, অর্থাৎ ২০২০ সালে বার্কশায়ার ও বাফেট সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এই শিল্প থেকে সব বিনিয়োগ তুলে নেন।
২০২০ সালে বার্কশায়ারের মালিকানাধীন একাধিক সংবাদপত্র বিক্রি করার সময় বাফেট বলেছিলেন, অধিকাংশ সংবাদপত্রের ব্যবসা কার্যত শেষের পথে। তখন তিনি এ–ও বলেন, যেসব পত্রিকা জাতীয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং যাদের শক্তিশালী পাঠকভিত্তি আছে, যেমন নিউইয়র্ক টাইমস বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সেই পত্রিকাগুলো টিকে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সাংবাদিকতা বিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম ফ্র্যাঙ্কলিন বলেন, সংবাদমাধ্যমে এই পুনর্বিনিয়োগ বার্কশায়ারের জন্য একধরনের চক্র পূরণ করার মতো বিষয়। তাঁর ভাষায়, নিউইয়র্ক টাইমসের বর্তমান ব্যবসায়িক কৌশলের ওপর যে বাফেটের আস্থা আছে, এই বিনিয়োগ সেই আস্থার ইঙ্গিত।
টিম আরও বলেন, ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটি এখন শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের রূপ নিয়েছে। জনপ্রিয় অনলাইন শব্দধাঁধা, ক্রীড়াকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম ও এক কোটির বেশি ডিজিটাল গ্রাহক—সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এখন বড় ডিজিটাল গণমাধ্যম। সংকটে থাকা স্থানীয় পত্রিকাগুলো তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
সিদ্ধান্ত কার
ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে অবশ্য এটা স্পষ্ট নয়, এ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাফেট নিয়েছেন, নাকি প্রতিষ্ঠানের অন্য বিনিয়োগ ব্যবস্থাপকেরা। সাধারণত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাফেট নিজেই নিতেন। ফলে এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কি না, তা নিশ্চিত নয়।
যাহোক, বিষয়টি হলো বাফেট যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন অন্য বিনিয়োগকারীরা তাঁর পথ অনুসরণ করবেন বা অন্তত সেই চেষ্টা করে দেখতে পারেন। দেখা যাচ্ছে, দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও বাজারে তাঁর প্রভাব দৃশ্যমান। বিনিয়োগের খবর প্রকাশের পর নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ারদর তাৎক্ষণিকভাবে বেড়েছে।
তেল খাতে বিনিয়োগ
তেল খাতে বার্কশায়ারের বিনিয়োগ নতুন কিছু নয়। শেভরনের আরও শেয়ার কিনে নিজেদের হিস্যা বাড়িয়েছে তারা। ভেনেজুয়েলায় এই কোম্পানির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম আছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা করে শেভরণ। চলতি বছর তাদের শেয়ারের দাম প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে আনার পর যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই বাস্তবতায় শেভরনে বার্কশায়ারের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি বোধগম্য। কেননা ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে বার্কশায়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল ব্যাংক অব আমেরিকার প্রায় পাঁচ কোটি শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া। তবে এত পরিমাণ শেয়ার বিক্রির পরও প্রতিষ্ঠানটির হাতে এখনো প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ শেয়ার আছে। ২০০৮-০৯ সালের বন্ধকি ঋণের সংকটের অভিঘাতে ব্যাংকটি যখন ২০১১ সালেও টালমাটাল অবস্থায় ছিল, তখনই তারা প্রথম এই ব্যাংকের শেয়ার কেনা শুরু করে।
এদিকে অ্যাপলের প্রায় ১ কোটি শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে বার্তকশায়ার। তারপরও বছর শেষে বার্কশায়ারের হাতে অ্যাপলের প্রায় ২২ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার আছে।
শুধু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগই নয়, বার্কশায়ারের নিজের মালিকানায়ও অনেক কোম্পানি আছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমা খাতের বড় কোম্পানি জেইকো, বিভিন্ন পরিষেবা প্রতিষ্ঠান, বিএনএসএফ রেলওয়ে ও উৎপাদন ও খুচরা বিক্রির নানা ব্র্যান্ড, যেমন ডেইরি কুইন ও সিস ক্যান্ডি।