যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে তেলের দামে ওঠানামা
মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল থাকার কথা বলায় তেলের দাম আবার কিছুটা কমে। আজ শুক্রবার দিনভর তেলের দাম ওঠানামা করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার খবরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক পর্যায়ে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ ডলারে পৌঁছায়। পরে তা কিছুটা কমে প্রায় ১০০ ডলারে নেমে আসে। একবার ৯৯ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমে যায়। আজ রাত সোয়া ৯টার দিকে এই লেখা তৈরি করার সময় প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ দশমিক ৫১ ডলারে ওঠে। খবর বিবিসি ও সিএনবিসির।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগর ছেড়ে যাওয়ার সময় তাদের জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ‘উসকানিহীন’ হামলার জবাবে তারা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও বলেছে, ‘পরিস্থিতি এখন আবার স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।’
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশের বেশি সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, যা সম্প্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত ওঠে। এখন অবশ্য ১০০ ডলারের আশপাশে ওঠানামা করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, সর্বশেষ গোলাগুলির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ডেস্ট্রয়ার জড়িত ছিল।