মার্কিন ক্রেতারা চাপে, ওয়ালমার্টের বিক্রি বৃদ্ধির হার ৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম
চলতি বছরের মে থেকে জুলাই—তিন মাসে ওয়ালমার্টের বিক্রি বেড়েছে খুব ধীরগতিতে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা এখন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আছেন।
আকার ও ব্যবসার পরিধির কারণে ওয়ালমার্ট ভোক্তাদের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিক্রি বৃদ্ধির গতি কমার জন্য জ্বালানির বাড়তি দামকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, গত মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে ওয়ালমার্টের একই ধরনের চালু থাকা দোকানগুলোর বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি বিক্রি বাদ দিয়ে এ হিসাব করা হয়েছে।
এদিকে আগে পরিশোধ করা আমদানি শুল্কের মধ্যে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার আশা করছে ওয়ালমার্ট। তারা জানিয়েছে, এ অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হবে, যাতে ক্রেতাদের কেনাকাটা ধরে রাখা যায়।
গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করা পণ্যের ওপর একের পর এক শুল্ক আরোপের পর ওয়ালমার্ট যে শুল্ক পরিশোধ করেছিল, তারই একটি অংশ ফেরত পাবে প্রতিষ্ঠানটি। এসব শুল্ক পরে আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার খুচরা বিক্রেতাদের অর্থ ফেরত দিচ্ছে।
ওয়ালমার্টের প্রতিদ্বন্দ্বী খুচরা বিক্রেতা টার্গেট সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা এক বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত পেয়েছে, যা তাদের মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত পাওয়ার আশা করছে তারা। এ অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর কর্মসূচি বা ‘রোলব্যাক’ অব্যাহত রাখবে প্রতিষ্ঠানটি। ক্রেতাদের ধরে রাখতে চলতি বছর পণ্যের দাম কমানোর ওপর জোর দিয়েছে ওয়ালমার্ট। এ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার পণ্যের দাম কমিয়েছে তারা।
ওয়ালমার্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি বলেন, পণ্যের দাম কমানোর ফলে ইতিমধ্যে লেনদেনের সংখ্যা ও বিক্রীত পণ্যের পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, খেলনাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, খুচরা বাজারের পরিস্থিতি এখনো এক রকম নয়। ওয়ালমার্টের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতাগোষ্ঠী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে।
জন ডেভিড রেইনি বলেন, পেট্রলের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের হাতে অন্যান্য খাতে খরচ করার মতো অর্থ কমে যাচ্ছে। প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম চার ডলারের বেশি হওয়ার পর ক্রেতাদের আচরণে এ পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, গত জুনে পেট্রলের দামে পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। নিম্ন আয়ের ক্রেতারা তখন কেনাকাটা কমিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনেই বেশি অর্থ ব্যয় করতে শুরু করেন।
ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ওয়ালমার্টের আর্থিক ফলাফলে আরও কয়েকটি ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে, যা আগামী মাসগুলোতে কোম্পানিটির ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে।
গত প্রান্তিকে (মে-জুলাই) কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধির বড় একটি অংশ এসেছে ইতিমধ্যে পাওয়া শুল্ক ফেরতের অর্থ থেকে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি এককালীন সুবিধা; ভবিষ্যতে একই মাত্রায় এমন সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পণ্যের দাম কমানোর ফলে কোম্পানিটির মুনাফার হার বা মার্জিনের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ওয়ালমার্ট স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, নতুন গুদাম ও প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করছে।
আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর আয়বিষয়ক আলোচনায় বিশ্লেষকেরা ব্যবস্থাপনার কাছে জানতে চান, পণ্যের দাম কমানোর ফলে ইতিমধ্যে বিক্রি বাড়ছে কি না এবং এসব মূল্যছাড়ের কিছু অংশ ২০২৭ সালেও স্থায়ী করা হবে কি না।
ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, এসব মূল্যছাড়ের সুফল সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রিতে। ক্রেতাদের মধ্যে কোনো কোনো মূল্যছাড় ভালো সাড়া ফেললে তা স্থায়ী করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি বলেন, ‘যেখানে সম্ভব, মূল্যছাড়কে স্থায়ী করাই আমাদের সব সময়ের আশা ও উদ্দেশ্য।’