তেল উত্তোলন আরও কমবে, এবারে উৎপাদন কমাবে যেসব দেশ
আবারও তেল উৎপাদন হ্রাসের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো। গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর জোটভুক্ত কয়েকটি দেশ দৈনিক ২ দশমিক ২ মিলিয়ন বা ২২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে।
সিএনএন জানিয়েছে, বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব যথারীতি এবারও তেল উৎপাদন হ্রাসের বিষয়ে নেতৃত্বে দিচ্ছে। তারা অবশ্য নতুন করে তেল উৎপাদন হ্রাসের ঘোষণা দেয়নি, বরং ১০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হ্রাসসংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়িয়েছে তারা। দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হ্রাসের আগের সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে এখন তা তিন মাস বাড়বে। ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সৌদি আরব দিনে ৯ মিলিয়ন বা ৯০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করবে। গত ৩০ নভেম্বর ভিয়েনার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুধু সৌদি আরব নয়, সেদিনের বৈঠকে আরও কিছু দেশ নিজে থেকে তেল উৎপাদন হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। এদের মধ্যে রাশিয়া উৎপাদন কমাবে দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল; ইরাক ২ লাখ ২৩ হাজার ব্যারেল; সংযুক্ত আরব আমিরাত ১ লাখ ৬৩ হাজার ব্যারেল; কুয়েত ১ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল; কাজাখস্তান ৮২ হাজার ব্যারেল; আলজেরিয়া ৫১ হাজার ব্যারেল এবং ওমান ৪২ হাজার ব্যারেল।
আরেক তেল উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিল আগামী বছরের শুরুতে ওপেকে যোগ দেবে বলে জানানো হয়েছে।
ব্রাজিলের জ্বালানি ও খনিজমন্ত্রী আলেক্সান্দ্রে সিলভেইরা গত বৃহস্পতিবার ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোকে বলেছেন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা ইতিমধ্যে ওপেকে যোগ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। এখন বিষয়টি কারিগরি পর্যালোচনার পর্যায়ে আছে।
এদিকে রয়টার্স ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের প্রধান নির্বাহীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ব্রাজিলের তেল উৎপাদন ওপেকের কোটা দিয়ে নির্ধারিত হবে না।
বৃহস্পতিবার ওপেকের বৈঠকের পর ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমে গেছে। এই বৈঠক গত সপ্তাহের রোববার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তেল উৎপাদন নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তা বৃহস্পতিবার শুরু হয়।
বাজারে তেলের দাম বাড়াতে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো ২০২২ সাল থেকেই তেল উৎপাদন হ্রাস করে যাচ্ছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও চাহিদা বেশি না থাকায় বাজারে তেলের দাম কমে যাচ্ছে। চলতি বছর সামগ্রিকভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে ১৩ শতাংশ আর ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে ১৬ শতাংশ।
বাজারে চাহিদা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। সে জন্যও দাম পড়ে গেছে। এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ চীনসহ অন্যান্য দেশের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণেও এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, অর্থাৎ তেলের দাম পড়ে যাচ্ছে।