গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন গাড়ি কোম্পানি ফোর্ড যখন ভারতে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে, তখন রীতিমতো কেঁপে উঠেছিল ভারতের গাড়িশিল্প। কারণ, গুজরাটের সানন্দ ও তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে ফোর্ড ইন্ডিয়ার কারখানার সঙ্গে চার হাজার পরিবারের রুটিরুজি যে সরাসরি জড়িত, তা-ই নয়, পরোক্ষভাবে অন্তত ২০ হাজার কর্মসংস্থান জড়িত। এতে অনেক পরিবেশকেরও ঝাঁপ বন্ধ হবে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরের মে মাসে টাটা মোটরস জানায়, সানন্দে ফোর্ডের কারখানা কেনার জন্য তাদের শাখা কোম্পানি টাটা প্যাসেঞ্জারস ইলেকট্রিক মোবিলিটির (টিপিইএমএল) সঙ্গে ফোর্ড ইন্ডিয়া (এফআইপিএল) ও গুজরাট সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। কথা ছিল, আর্থিক চুক্তির পরে ফোর্ডের ওই কারখানার জমি, অফিস, উৎপাদন ইউনিট, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশসহ সবই চলে আসবে টাটাদের হাতে।

টাটা মোটরস জানিয়েছে, ফোর্ডের যোগ্য কর্মীদেরও নেবে তারা। টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জারস ভেহিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শৈলেশ চন্দ্র ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, ওই কারখানার জন্য নতুন যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম কেনা হবে, যাতে সেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করা যায়। কারখানার বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে তিন লাখ ইউনিট, তা চার লাখ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

জেনারেল মোটরস (জিএম) চার বছর আগে ভারত থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়েছে। অতিরিক্ত করের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও টয়োটা ২০২০ সালে ভারত থেকে ব্যবসা গোটানোর ব্যাপারটিকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। অন্য দিকে হোন্ডা তাদের সিভিক এবং অ্যাকর্ড মডেল দুটি তৈরি বন্ধ রাখে।

কথা হচ্ছে, বিদেশি গাড়ি কোম্পানিগুলো ভারত থেকে পাততাড়ি গোটাচ্ছে কেন। ভারতের একদা উজ্জ্বল গাড়ির বাজার আর যথাস্থানে নেই। গাড়ির সংখ্যা বিচার করে (দাম নয়) বিশ্বে তার চতুর্থ থেকে তৃতীয় স্থানে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরপর তা পঞ্চম স্থানে গিয়ে নামে (এগিয়ে আসে জার্মানি)। কোভিডের ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেনি ভারতের বাজার।