বাংলাদেশের চিকিৎসা বাজার ধরতে চায় মালয়েশিয়া

বিদেশে চিকিৎসা নিতে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যান ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে। বাংলাদেশের বিদেশনির্ভর স্বাস্থ্য বাজারের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে এই তিন দেশ। এখন মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বাজার ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরতেই গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হলো ‘মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার এক্সপো’ শীর্ষক এক স্বাস্থ্য প্রদর্শনী। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই প্রদর্শনীটির আয়োজন করে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (এমএইচটিসি) ও বাংলাদেশের সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স। মালয়েশিয়ার সরকারি-বেসরকারি খাতের পাঁচটি হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র, এমএইচটিসি, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ও ব্র্যাক ব্যাংক প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিমা স্কিম ‘জিডি হেলথ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিতে আগ্রহী অনেকেই এ প্রদর্শনীতে খোঁজ নিতে এসেছেন। আর স্টলগুলোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে আগ্রহীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান রামসে সাইম ডারবি হেলথকেয়ার। অস্ট্রেলিয়ার রামসে হাসপাতাল ও মালয়েশিয়ার সাইম ডারবি হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানী কুয়ালালামপুর ও কুয়ালালামপুরের নিকটে সেলাঙ্গরে প্রতিষ্ঠানটির তিনটি হাসপাতাল, একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট ও মাল্টিপ্লেক্স ওয়েলনেস সেন্টার রয়েছে।
রামসে সাইম ডারবির স্টলে গিয়ে দেখা গেল, মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন এমন এক ব্যক্তি তাঁর সমস্যার কথা বলছেন আর তা মন দিয়ে শুনছিলেন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নুরুল হাসিকিন আদানান। তিনি জানালেন, মেরুদণ্ডের এমন সমস্যার চিকিৎসা করাতে মালয়েশিয়ায় খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৫৫ হাজার রিঙ্গিত, বাংলাদেশি টাকায় সাত থেকে ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্যানসার, ইউরোলজি, রক্তবিষয়ক সমস্যা, নিউরো, হাড়, শিশু ও প্রসূতি মায়ের চিকিৎসার জন্য তাঁদের আলাদা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসা নিতে আগ্রহী যেকোনো ব্যক্তি ঢাকার বনানীতে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার সার্ভিসেস নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অথবা সরাসরি যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারেন।
বাইপাস সার্জারি, পেসমেকার বসানোসহ হৃদ্রোগের যাবতীয় চিকিৎসার জন্য কুয়ালালামপুরে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলো ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট। স্টলটির দায়িত্বে থাকা মার্কেটিং কর্মকর্তা আকিম আফান্দি আহমেদ জানালেন, হৃদ্রোগের অনেক চিকিৎসা পদ্ধতি এশিয়ায় প্রথম শুরু করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। এখানে বাইপাস সার্জারি করাতে খরচ পড়বে ৪৫ হাজার রিঙ্গিত বা ১০ লাখ টাকা।
প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থী মাসুম একরাম জোয়ার্দার বলেন, ‘বড় ভাইকে চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, তাই খোঁজ নিতে এসেছি। মালয়েশিয়া গেলে কত খরচ হবে, সেগুলো জানলাম। সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
গ্রিন ডেল্টার করপোরেট যোগাযোগবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাজমুস সাকিব বলেন, ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যেকোনো ব্যক্তি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুই থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা করাতে পারবেন। এর জন্য প্রিমিয়াম দিতে হবে মাসে আট থেকে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা।