ওয়ারেন্টি শেষ হলেও দুশ্চিন্তা নেই

প্রতীকী ছবি

দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। খাবার সতেজ রাখা ও ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই। নতুন ফ্রিজ কেনার পর প্রথম কয়েক বছর আফটার সেলস সার্ভিস বা ওয়ারেন্টির কারণে বেশ নিশ্চিন্ত থাকা যায়। তবে ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষে অতি প্রয়োজনীয় এই যন্ত্র হঠাৎ বিকল হলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ফ্রিজের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রয়োত্তর সেবা, ওয়ারেন্টি–পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ এবং সঠিক উপায়ে মেরামতের খুঁটিনাটি জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের বিক্রয়োত্তর সেবা

বাংলাদেশে ওয়ালটন, মিনিস্টার, ভিশনের মতো জনপ্রিয় দেশি ব্র্যান্ড এবং কনকা, স্যামসাং, গ্রী বা এলজির মতো স্বনামধন্য বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিতকরণে বহুমুখী ‘আফটার সেলস সার্ভিস’ দিয়ে থাকে।

কম্প্রেসর ও পার্টস ওয়ারেন্টি

ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কম্প্রেসরের ওপর দেশি-বিদেশি প্রায় সব ব্র্যান্ডই ১০ থেকে ১২ বছরের গ্যারান্টি দেয়। এমনকি স্যামসাংয়ের মতো ব্র্যান্ড তাদের ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসরে এখন ২০ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দিচ্ছে। পাশাপাশি মাদারবোর্ড, সার্কিট বা কুলিং ফ্যানের মতো যন্ত্রাংশে ১ থেকে ২ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি ও ফ্রি সার্ভিস পাওয়া যায়।

ডোরস্টেপ সার্ভিস ও অরিজিনাল পার্টস

নষ্ট ফ্রিজ বয়ে সার্ভিস সেন্টারে নেওয়ার দিন এখন শেষ। কোম্পানির টোল-ফ্রি হটলাইন বা অ্যাপে অভিযোগ জানালেই ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানরা বাসায় এসে মেরামত করে দিয়ে যান। এতে অরিজিনাল পার্টস পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।

সার্ভিস পয়েন্টের বিস্তৃতি

দেশি ব্র্যান্ডগুলোর বড় সুবিধা হলো উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তাদের বিস্তৃত সার্ভিস পয়েন্ট। ফলে প্রান্তিক গ্রাহকেরাও দ্রুত সেবা পান। তবে মনে রাখতে হবে, অননুমোদিত মেকানিক দিয়ে ফ্রিজ খোলালে কোম্পানির অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

ওয়ারেন্টি শেষে নিজস্ব রক্ষণাবেক্ষণ

ফ্রিজ দীর্ঘকাল সচল রাখতে, কম্প্রেসরের ওপর চাপ এড়াতে, অতিরিক্ত খাবার ঠাসাঠাসি করে রাখা থেকে বিরত থাকুন। বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে সুরক্ষা পেতে একটি ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভরসা যখন অনলাইন সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম

ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার পর ফ্রিজ নষ্ট হলে পরিচিত বা নির্ভরযোগ্য মেকানিক খুঁজে পাওয়া বেশ ঝক্কির কাজ। পাড়া-মহল্লার অদক্ষ মেকানিক দিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ইনভার্টার ফ্রিজ ঠিক করালে অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়। পার্টস চুরি যাওয়া বা নিম্নমানের পার্টস লাগিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়।

এ সমস্যার আধুনিক ও নিরাপদ সমাধান নিয়ে এসেছে বর্তমানের বিভিন্ন অনলাইন সার্ভিসিং প্ল্যাটফর্ম (যেমন সেবা এক্সওয়াইজেড বা অনুরূপ অ্যাপ)। স্মার্টফোনের কয়েকটি ক্লিকেই এখন দক্ষ টেকনিশিয়ান ডেকে নেওয়া সম্ভব।

অনলাইন সার্ভিসের সুবিধা

স্বচ্ছ প্রাইসিং: এসব প্ল্যাটফর্মে কাজের ধরন অনুযায়ী সার্ভিস চার্জ আগে থেকেই উল্লেখ করা থাকে। ফলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ থাকে না।

ভেরিফায়েড টেকনিশিয়ান: শুধু ভেরিফায়েড ও অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান পাঠানো হয় এবং তাদের পূর্ববর্তী কাজের কাস্টমার রিভিউ দেখার সুযোগ থাকে।

সার্ভিস ওয়ারেন্টি:

স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মেরামত কাজের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন ৭ থেকে ৩০ দিন) জন্য ‘সার্ভিস ওয়ারেন্টি’ দেয়। এই সময়ে আবার একই সমস্যা দেখা দিলে বিনা মূল্যে তা ঠিক করে দেওয়া হয়।

তাই যেকোনো মেকানিক্যাল প্রয়োজনে সচেতন থাকুন এবং আধুনিক অনলাইন সার্ভিসের ওপর ভরসা রাখুন; আপনার নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রটি দীর্ঘায়ু পাবে।