অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ দেওয়া শুরু
দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এখন আর পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই, সেগুলো বাস্তব রূপ পাচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে একটিতে জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন আহ্বান করে প্রসপেক্টাস বা বিবরণপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
কারখানা করার জন্য সরাসরি বিনিয়োগকারীদের এভাবে জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর জন্য প্রথম ঘটনা। এর আগে জমি উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগকারীদের অথবা বিভিন্ন দেশকে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। তবে পণ্য উৎপাদনের কারখানা করার জন্য এখন পর্যন্ত জমি দেওয়া হয়নি।
বেজা ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। এর মধ্যে সিলেটের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ অনেকখানি এগিয়ে গেছে। এ দুটিতেই প্রথমে জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুরুতে আমরা বড় বিনিয়োগকারীদের জমি বরাদ্দ দেব। তাঁরা এখন জমি নিয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তাঁদের কারখানার ভবন নির্মাণ শুরু করতে পারবেন। এসব জমিতে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো পাওয়া যাবে।’
শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের মোট আয়তন ৩৫২ একর। এর মধ্যে ২৪০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। বেজার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কমপক্ষে তিন একর করে জমি বরাদ্দ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। দেওয়া হবে ৫০ বছরের চুক্তিতে। ইজারার অর্থ এককালীন অথবা বছরে বছরে পরিশোধ করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। আর বছরে বছরে পরিশোধের ক্ষেত্রে মূল্য বেশি পড়বে। এ ছাড়া বেজা এককালীন মূল্য পরিশোধে আগ্রহীদের অগ্রাধিকার দেবে।
শ্রীহট্টের আবেদন করার কোনো শেষ সময় নেই। তবে জমি বরাদ্দ শেষ হওয়ার আগে আবেদন করতে বলেছে বেজা। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় শিল্প, বিশেষায়িত শিল্প, রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বেজার প্রসপেক্টাসে। এতে আরও জানানো হয়, এ জন্য বেজার কাছ থেকে মার্কিন ১২৫ ডলার বা ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ফরম কিনে তা পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বেজার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে ইজারামূল্যের ১ শতাংশ অর্থও জমা দিতে হবে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের আয়তন হবে ৩০ হাজার একর। তবে প্রাথমিকভাবে সেখানকার ১ হাজার ৩০০ একর জমি বরাদ্দ দেবে বেজা। এ জন্য চলতি মাসেই আরেকটি প্রসপেক্টাস প্রকাশ করা হবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো জমি নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। আবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সেখানে জমি চাইছেন।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) ১ হাজার ২০০ একর জমি দিয়েছে আরেকটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য। অন্যদিকে ভারত সেখানে ১০৫৫ একর জমি চেয়েছে নিজেদের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আগ্রহ দেখিয়ে।
বেজার গভর্নিং বোর্ড গত জানুয়ারিতে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির ইজারামূল্য ঠিক করেছে। এককালীন ৫০ বছরের ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার অনুন্নত জমির ইজারামূল্য ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ৩০ ডলার এবং উন্নত জমির মূল্য ধরা হয়েছে দশমিক ৬০ ডলার। বিশেষায়িত অবকাঠামোর জন্য ইজারামূল্য শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ ডলার হবে। তবে বছর ভিত্তিতে কোনো বিনিয়োগকারী জমি নিতে চাইলে তাঁকে প্রতি বর্গমিটারে ভাড়া দিতে হবে শূন্য দশমিক ৯০ ডলার থেকে ১ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত।
অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে ধাপে ধাপে ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া নানা ধরনের করের সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা।