দেশেই ভ্যানিলার চাষ শুরু, বিশ্ববাজারে এক কেজির দাম ৩০ হাজার টাকা
আমরা আইসক্রিমের দোকানে গিয়ে ভ্যানিলা আইসক্রিম চাই। কিংবা কেকের দোকানে ভ্যানিলা ফ্লেভারের কেক চাই। এমন আইসক্রিম থেকে শুরু করে পারফিউম—নানা পণ্যে ভ্যানিলার ফ্লেভার বা সুবাস ব্যবহার করা হয়। আইসক্রিম ও কেকের মতো বেকারি পণ্যের কারণে ভ্যানিলা এখন অনেকের কাছে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
সুখবর হলো, দেশেই এখন ভ্যানিলার বাণিজ্যিক উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। ২০১৯ সালে বগুড়ায় অনেকটা শখের বশে পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যানিলার চাষ শুরু হয়। এখন ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে ভ্যানিলা চাষ করছেন উদ্যোক্তারা। এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেননি চাষিরা। বর্তমানে বিশ্ববাজারে এক কেজি ভ্যানিলা ২৫০ ডলারের (৩০ হাজার টাকা) আশপাশে বিক্রি হচ্ছে।
অবাক করা তথ্য হচ্ছে, বিভিন্ন পণ্যে সচরাচর যে ভ্যানিলা ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়, তা আসলে কৃত্রিম ভ্যানিলা; পরীক্ষাগারে রাসায়নিক দিয়ে তৈরি হয়। বাংলাদেশেও এই কৃত্রিম ভ্যানিলাই আমদানি হয়।
প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলার উৎপাদন একেবারেই নগণ্য। দামি এই মসলাপণ্যের প্রাকৃতিক উৎপাদন কেন্দ্রীভূত মাত্র কয়েকটি দেশে।
ফরচুন বিজনেস ইনসাইটসের তথ্য অনুসারে, ভ্যানিলার বৈশ্বিক বাজার ৪১০ কোটি ডলারের বেশি। ২০৩৪ সালে এই বাজার ৬৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবছর ভ্যানিলার বাজার ৬ শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই ভ্যানিলা আসলে একধরনের মসলাপণ্য। পণ্যটি এখন সহজলভ্য হলেও এর পেছনের গল্পটি একেবারেই সাধারণ নয়। আমেরিকা মহাদেশের গহিন জঙ্গল থেকে এটি ছড়িয়েছে দেশে দেশে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসও।
ভ্যানিলা আসলে কী
ভ্যানিলা মূলত একটি লতানো অর্কিড–জাতীয় গাছের ফল, যা ভ্যানিলা বিন বা ভ্যানিলা পড বা ফল নামেও পরিচিত। কাঁচা ভ্যানিলা ফলে নিজস্ব কোনো ঘ্রাণ থাকে না। এগুলো পরিপক্ব হলে গাছ থেকে সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় ধরে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এরপর বিশেষ সেই ঘ্রাণ তৈরি হয় এবং সেখান থেকে ভ্যানিলা নির্যাস সংগ্রহ করা হয়।
বাংলাদেশে চাষ শুরু
২০১৯ সালে বগুড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যানিলা চাষ শুরু হয়। ভ্যানিলা চাষ শুরু করেন বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু হেনা ফয়সাল ফাহিম।
আবু হেনা ফয়সাল ফাহিম নিজের অভিজ্ঞতা প্রথম আলোকে জানান। ২০১৯ সালে মসলা নিয়ে একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে তিনিসহ একদল গবেষক ইন্দোনেশিয়ায় যান। সেখানে তাঁরা ভ্যানিলা চাষ সম্পর্কে সরাসরি জানেন। পরে ইন্দোনেশিয়া থেকে ভ্যানিলাগাছের একটি কাটিং (কলম বা চারা) এনে মসলা গবেষণা কেন্দ্রে রোপণ করেন ফয়সাল ফাহিম। এরপর ওই গাছ থেকে আরও কাটিং বা কলম (চারা) বানিয়ে নতুন গাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে ৩ শতক জায়গায় ৬০টি ভ্যানিলাগাছ আছে।
ভ্যানিলা (প্রাকৃতিক) উৎপাদন ও রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কার। বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড সলিউশনের (ডব্লিউআইটিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাদাগাস্কার প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের ভ্যানিলা রপ্তানি করে।
পরবর্তী কয়েক বছরে ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগেও স্বল্প পরিসরে এই ভ্যানিলা চাষের চেষ্টা করা হয়। ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যানিলা নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে দেশে এ পর্যন্ত কেউই বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা উৎপাদন শুরু করতে পারেননি।
ফল পেতে কত দিন লাগে
ভ্যানিলা সাধারণ মাটিতে হয় না। এ জন্য অর্গানিক ডিকম্পোজড মিডিয়া তৈরি করতে হয়। এ ছাড়া প্রয়োজন হয় শেডের। ছায়াযুক্ত বাগানে বিভিন্ন গাছেও এটি করা যায়; তবে শেডেই বেশি সুবিধা।
একটি ভ্যানিলার চারা (কাটিং) রোপণের দু–তিন বছর পরে ফুল আসতে পারে। প্রতিটি ফুলের থোকায় ১৩ থেকে ১৮টি ফুল হয়। ফুল ফুটে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এই সময়ের মধ্যে পরাগায়ন হতে হয়। বাণিজ্যিক উৎপাদন চাইলে পরাগায়নের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। পরাগায়নের পর ফল এলে তা পরিপক্ব হতে আরও সাত থেকে আট মাস লাগে। সাধারণত এপ্রিলে ভ্যানিলাগাছে ফুল আসে; আর নভেম্বর–ডিসেম্বরের দিকে ফল পরিপক্ব হয়।
ফল সংগ্রহের পরও কাজ শেষ হয় না। সুগন্ধি মসলা হিসেবে বিক্রির উপযোগী করতে ফল প্রক্রিয়াজাত ও শুকাতে হয়। প্রথমে ৬০ ডিগ্রি গরম পানিতে ৩ মিনিটের জন্য রাখা হয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা তা একটি বাক্সের মধ্যে ফারমেন্টেশন বা গাঁজনের জন্য রাখা হয়। এ অবস্থায় সবুজ ভ্যানিলা বিন কালো রং ধারণ করে।
পরবর্তী এক মাস নিয়ম করে প্রতিদিন সকালবেলা মৃদু আলোয় দুই ঘণ্টা করে রোদে শুকানো হয়। এভাবে ভ্যানিলার নির্যাস প্রস্তুত হয়। পরবর্তী সময়ে এই নির্যাস প্রক্রিয়াজাত করে ভ্যানিলার স্বাদ ও সুগন্ধির উপাদান বের করা হয়। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে এই ভ্যানিলার নির্যাস বের করার পদ্ধতি নেই।
ভ্যানিলার সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হলো যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ১০ কোটি ডলারের ভ্যানিলা আমদানি করে।
বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফয়সাল ফাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া ভ্যানিলা চাষের জন্য উপযোগী, তা প্রমাণিত হয়েছে। তবে ভ্যানিলা চাষ অত্যন্ত শ্রমঘন এবং প্রাথমিক খরচের দিক থেকে উচ্চ বিনিয়োগের ফসল। ৫০ শতক জমিতে ১ হাজার গাছের বাণিজ্যিক প্রকল্প নিতে প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে এটি লাভজনক হবে কি না, সেটি যাচাইয়ের পরেই আমরা সরকারিভাবে কৃষকদের কাটিং সরবরাহ করতে পারব।’
তবে ইতিমধ্যে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে ভ্যানিলা চাষে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁরা ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে ভ্যানিলার কাটিং আনিয়েছেন। আবার এসব উদ্যোক্তা পরস্পরকেও কাটিং দিয়ে সহায়তা করছেন।
এমনই একজন উদ্যোক্তা যশোরের মো. সারোয়ার হোসেন। তিনি আম ও ড্রাগন চাষের পাশাপাশি ছায়াবৃত্ত ক্যানোপি পদ্ধতি ব্যবহার করে ভ্যানিলা চাষ শুরু করেছেন।
সারোয়ার হোসেন জানান, চার বছর আগে তিনি ভ্যানিলা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুতে কিছু গাছ মারা গেলেও বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ১৫০টি ভ্যানিলাগাছ বেড়ে উঠছে।
সারোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ভ্যানিলা হবে না—এ রকম কোনো জায়গা নেই। এখন দরকার উৎপাদন বাড়ানো। দেশে যদি ১০০ জন কৃষককে প্রয়োজনীয় ভ্যানিলা কাটিং দেওয়া হয়, তাহলে চার থেকে পাঁচ বছর পর এক হাজার কেজি ভ্যানিলা বিন রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এমনিতেই বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে।’
বাজার কত বড়
ফরচুন বিজনেস ইনসাইটসের তথ্য অনুসারে, ভ্যানিলার বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৪১০ কোটি ডলারের বেশি। ২০৩৪ সালে এই বাজার ৬৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবছর ভ্যানিলার বাজার ৬ শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভ্যানিলাকে পৃথিবীর দ্বিতীয় দামি মসলা মনে করা হয়। প্রথম স্থানে আছে জাফরান। আন্তর্জাতিক বাজারে ভ্যানিলার দামও অত্যন্ত চড়া। ভ্যানিলার বিভিন্ন গ্রেড রয়েছে। কয়েক বছর আগেও বৈশ্বিক বাজারে এক কেজি ভ্যানিলার গড় দাম ছিল ৫৫০ ডলার (প্রায় ৫০ হাজার টাকা)। পরে এই দাম কমে আসে। বর্তমানে তা ২৫০ ডলারের (৩০ হাজার টাকা) আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। এই দাম কমার অন্যতম কারণ কৃত্রিম ভ্যানিলার উৎপাদন বৃদ্ধি।
কোন কোন খাতে ব্যবহার
ভ্যানিলার সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার খাদ্য ও পানীয় শিল্পে। কেক, বিস্কুট, মাফিন ও পেস্ট্রির পাশাপাশি আইসক্রিম, দই, কাস্টার্ড, ফ্লেভারড দুধ, ক্যান্ডি, চকলেট, বিভিন্ন দানাদার খাবার প্রভৃতিতে ভ্যানিলার ব্যবহার রয়েছে। সুগন্ধি, প্রসাধনী ও ওষুধশিল্পেও ভ্যানিলার ব্যবহার আছে। তবে ভ্যানিলার স্বাদযুক্ত সব পণ্যেই প্রাকৃতিক বিন ব্যবহার করা হয় না; কৃত্রিম ভ্যানিলাই বেশি ব্যবহৃত হয়।
ভ্যানিলিন হলো ভ্যানিলার প্রধান সুগন্ধি যৌগ, যা শিল্পপদ্ধতিতেও তৈরি করা যায়। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম ভ্যানিলার ব্যবহার ব্যাপক। তাই ভ্যানিলা বিনের বাজার, প্রাকৃতিক নির্যাস এবং কৃত্রিম ভ্যানিলিনের বাজারকে আলাদা করে দেখতে হয়। প্রতিবেদনে ভ্যানিলার আমদানি ও রপ্তানির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা প্রাকৃতিক ভ্যানিলার। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট ভ্যানিলা ফ্লেভারের ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশই হলো কৃত্রিম ভ্যানিলা।
প্রথম উৎপাদন মেক্সিকোতে
বিবিসি জানায়, ভ্যানিলার বাণিজ্যে বর্তমানে শীর্ষ রয়েছে আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কার। তবে মসলাটির উৎপত্তি সেখানে হয়নি। ভ্যানিলার পথচলা শুরু হয়েছিল মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার জঙ্গলে। এরপর ভ্যানিলা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাসটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।
ভ্যানিলার উৎপত্তির পর দেশে দেশে ছড়িয়ে যাওয়া নিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সাবেক সাংবাদিক টিম ইকোট একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম ‘ভ্যানিলা: ট্রাভেলস ইন সার্চ অব দ্য লাশাস সাবস্টেন্স’, যা ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
বইয়ে টিম ইকোট বলেন, বর্তমান মেক্সিকোর পাপান্তলা অঞ্চলের টোটোনাক আদিবাসীরা প্রথম ভ্যানিলা চাষ শুরু করেন। ১৫ শতকে অ্যাজটেক জাতি টোটোনাক আদিবাসীদের পরাজিত করে পাপান্তলা এলাকা জয় করে। অ্যাজটেকরা তাদের চকলেট–জাতীয় বিশেষ ধরনের একটি পানীয়র স্বাদ বাড়াতে ভ্যানিলা ব্যবহার শুরু করে।
এরপর মেক্সিকোতে স্পেনের ঔপনিবেশিক শাসন চালু হলে অ্যাজটেক সম্রাটদের ভ্যানিলা, চকলেটসহ রাজকীয় ফ্লেভারগুলো স্পেনে সরবরাহ হয়। আটলান্টিক পার হওয়ার পর ভ্যানিলা দ্রুত নিজস্ব একটি পথ তৈরি করে নেয়। অল্প সময়ের মধ্যে ইউরোপের দেশে দেশে রাজকীয় মসলায় পরিণত হয়। পরে অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো ভ্যানিলা চাষে ঝোঁকে। একপর্যায়ে এটি ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
রপ্তানিতে শীর্ষে মাদাগাস্কার, বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র
ভ্যানিলা (প্রাকৃতিক) উৎপাদন ও রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কার। বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড সলিউশনের (ডব্লিউআইটিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাদাগাস্কার প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের ভ্যানিলা রপ্তানি করে। ভ্যানিলা রপ্তানিতে মাদাগাস্কারের পরে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, উগান্ডা ও কানাডা। দেশগুলো বছরে দেড় থেকে চার কোটি ডলার পর্যন্ত ভ্যানিলা রপ্তানি করে। নেদারল্যান্ডস ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিও এক কোটি ডলারের বেশি।
অন্যদিকে আমদানিতে এরপর রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, সুইজারল্যান্ড। মূলত এই দেশগুলো ভ্যানিলা বিন আমদানি করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এর নির্যাস তৈরি করে পুনরায় রপ্তানি করে। এ কারণে আমদানি ও রপ্তানি উভয় তালিকার শীর্ষে এই দেশগুলোর নাম রয়েছে।
প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে আরও আছে ইন্দোনেশিয়া, উগান্ডা, মেক্সিকো, পাপুয়া নিউগিনি, ভারত, কমোরোস, তানজানিয়া। ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতিও বিশেষ ধরনের ভ্যানিলা উৎপাদনের জন্য পরিচিত।