একক ঋণগ্রহীতার সীমা অতিক্রম কিছু ব্যাংকের

একক ঋণগ্রহীতার সীমা অতিক্রম করছে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক। বিদ্যুৎ খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সীমা অতিক্রম করে ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ একটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যাকে একক ঋণগ্রহীতা সীমা বলা হয়।
এসব প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সীমার মধ্যে আনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি খাতের তিনটি ও বেসরকারি খাতের কমপক্ষে তিনটি ব্যাংক এ সীমা অতিক্রম করে ঋণ দিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার জন্য কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তবে তা কোনোভাবেই মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি নয়। ব্যাংকগুলো অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ধরে এ সুযোগে একক প্রতিষ্ঠানকে সীমার অতিরিক্ত ঋণ দিয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ ছিল কয়েকটি ব্যাংক থেকে সিন্ডিকেট করে ঋণ নেওয়ার। এরপরও নিয়ম ভেঙে এক ব্যাংক থেকেই ঋণ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৬খ(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে প্রদত্ত ঋণসুবিধা কোনোভাবেই ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না। ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রদত্ত ফান্ডেড ঋণসুবিধা ব্যাংকের মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। তবে বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা খাতকে ফান্ডেড ঋণের এ সীমা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ খাত, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও খাতে এ নিয়ম শিথিল করা হয়। এ সুযোগে কয়েকটি ব্যাংক মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়ে বলেছে, উক্ত অব্যাহতি কোনোভাবেই আইনের ২৬খ(১) ধারার নির্দেশনার পরিপন্থী হওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, একক গ্রাহকের প্রদত্ত ঋণসুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির মর্মার্থ অস্পষ্ট বিবেচনায় কোনো কোনো ব্যাংক আইনের নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখন স্পষ্ট করা যাচ্ছে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে প্রদত্ত ঋণসুবিধা কোনোভাবেই ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না।