উত্তরাঞ্চলে আর্থিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হিমাগারগুলোর খেলাপি ঋণ বিশেষ ব্যবস্থায় পুনঃ তফসিল, নতুন করে গ্রেস বা মরেটরিয়ামসহ (প্রথম কিস্তির জমার সময় নির্ধারণ) বিভিন্ন সুবিধার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার এই নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হিমাগার প্রকল্পগুলোর অনিয়মিত ঋণ ব্লক হিসেবে স্থানান্তর করে এসব সুবিধা দেওয়া যাবে। ব্লক হিসেবে স্থানান্তরিত ঋণের সুদ হার হবে ১০ শতাংশ অথবা ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়—এ দুয়ের মধ্যে যেটি কম, সেই হারে।
এতে বলা হয়েছে, এর আগে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুবিধা নিয়েছে এমন হিমাগারও এ সুবিধার আওতায় পড়বে। সুবিধা নিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঋণগ্রহীতাকে আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক নথিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। আর ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে ষাণ্মাসিক কিস্তিতে সর্বোচ্চ আট বছরের জন্য এবং চলতি মূলধন ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সময়ের জন্য এ সুবিধা দেওয়া যাবে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিমাগার প্রকল্পগুলোর জন্য এ সুবিধা দিয়েছে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
এ ধরনের ঋণ পুনঃ তফসিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত ডাউন্ট পেমেন্ট বা এককালীন জমা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ শিথিল করতে পারবে। অনারোপিত সুদ, স্থগিত সুদ ও দণ্ড সুদ (সম্পূর্ণ বা আংশিক) মওকুফ করতে পারবে। তবে মূল ঋণ ও মামলা খরচ মওকুফ করা যাবে না। সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত ঘাটতি থাকলে গ্রাহকের কাছ থেকে নতুন জামানত নিতে হবে। এ ছাড়া ঋণ অনাদায়ি থাকার কারণে যেসব হিমাগারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেগুলো সোলেনামারভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা যাবে।