গাড়ি খালাসে জটিলতা, ভোগান্তি

মোংলা বন্দরে রাখা আমদানি করা গাড়ি। ছবিটি সম্প্রতি তোলা l প্রথম আলো
মোংলা বন্দরে রাখা আমদানি করা গাড়ি। ছবিটি সম্প্রতি তোলা l প্রথম আলো

মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা গাড়ি খালাসে নানা ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। বন্দরের দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি, গাড়ি খালাস করে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয়, কাস্টমস হাউস মোংলা বন্দরে না থাকাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় তাঁরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

গত মাসে গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন) নেতারা মোংলা বন্দরে এসে বন্দরের চেয়ারম্যান ও মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনারকে লিখিতভাবে এ বিষয়ে অবহিত করেন। বারভিডা নেতাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া ব্যবস্থার পরও তাঁরা পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জাপান থেকে ২০০৯ সালের ৩ জুন ঢাকার গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হক’স বে অটোমোবাইলস সর্বপ্রথম নতুন ও রিকন্ডিশন্ড ২৫৫টি গাড়ি আমদানির মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি শুরু করে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য আমদানিকারকেরাও মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি শুরু করে। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে গাড়ি আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৬৯টিতে। বর্তমানে মোংলা বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ৪ হাজার ২৬২টি গাড়ি।

গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, মোংলা বন্দরের অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে গাড়ির ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ মাঝেমধ্যে চুরি হয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আমদানি করা গাড়ির ব্র্যান্ড লোগো, ফগ লাইটের কভার, লুকিং গ্লাসের যন্ত্রাংশ, এসির যন্ত্রাংশ, সাউন্ড সিস্টেমের এসডি কার্ডসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। এ ছাড়া নানা কারণে গাড়িগুলোর সিট কভার নষ্ট হচ্ছে ও দাগ পড়ছে। ঢাকায় নিয়ে গিয়ে এগুলো ঠিক করতে আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বন্দরে গাড়ি বিশৃঙ্খলভাবে রাখার কারণে গাড়ির রং নষ্ট হচ্ছে ও স্ক্র্যাচ পড়ছে। ডেলিভারি নেওয়া গাড়ি ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিতে গেলেও ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি পোহাতে হচ্ছে। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ‘কার ক্যারিয়ার’ চালু করা।

মোংলা বন্দর দিয়ে সর্বপ্রথম গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হক’স বে অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী ও বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মোংলা কাস্টম হাউসের প্রধান কার্যালয়ের অবস্থান বন্দর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে, বিভাগীয় শহর খুলনার খালিশপুরে। দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেখান থেকে ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বন্দর থেকে গাড়ি ডেলিভারি নিতে রাত হয়ে যায়। তখন গাড়িগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত চট্টগ্রাম বন্দরের মতো শুল্ক কার্যক্রম বন্দরেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা।

মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত মাসে বারভিডার নেতারা তাঁদের সমস্যাগুলো লিখিত আকারে জানিয়েছিলেন। তারপর আমরা বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়িয়েছি। তাতে চুরির ঘটনা কমে গেছে। আর গাড়ি দ্রুত খালাসের বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারপরও আমরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য বলেছি।’