গুঁড়া দুধের আরেকটি কারখানা করছে মিল্ক ভিটা
সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে গুঁড়া দুধ তৈরির আরেকটি কারখানা স্থাপন করবে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড, যা মিল্ক ভিটা নামেই বেশি পরিচিত।
কারখানাটি প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে প্রতিদিন উৎপাদন হবে ২৫ টন গুঁড়া দুধ। এ লক্ষ্যে নেওয়া ‘সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাটে গুঁড়া দুগ্ধ কারখানা প্রকল্প’ আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী (একনেক) কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য উঠছে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, দেশে গুঁড়া দুধের চাহিদা মেটাতে সরকার এই কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদনে যাবে। দৈনিক ২৫ টন গুঁড়া দুধ উৎপাদন করতে এই কারখানায় প্রতিদিন দুই লাখ লিটার তরল দুধ লাগবে। আর পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মিল্ক ভিটা।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে দুধের যে চাহিদা, তাতে বাস্তবতার কারণেই এই প্রকল্পটি দরকার। দেশে এখন প্রচুর তরল দুধ উৎপাদিত হয়। কিন্তু তার সামান্যই প্রক্রিয়াজাত হয়। ফলে অনেক সময় খামারিরা কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হন। আবার দেশে উৎপাদিত না হওয়ায় প্রচুর গুঁড়া দুধ আমদানি হয়ে থাকে। এসব দিক চিন্তা করেই আমরা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছি, যেন খামারিরা দুধের ন্যায্য দাম পান এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়।’
শেখ নাদির হোসেন জানান, মিল্ক ভিটার বর্তমান গুঁড়া দুধের কারখানাটিতে অনেক দিন বিএমআরই হয়নি। ফলে সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী গুঁড়া দুধ উৎপাদন করা সম্ভব নয়। সে কারণেই নতুন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় প্রতিদিন ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭১ লিটার তরল দুধ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে মিল্ক ভিটা ওই এলাকায় নিজস্ব প্রাথমিক দুগ্ধ সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৌসুমভেদে দৈনিক আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে।
কিন্তু বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ভরা মৌসুমে ওই এলাকায় অতিরিক্ত দুধ উৎপাদন হয়, যা অনেক সময় উদ্বৃত্ত থাকে। আবার বর্ষাকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সড়ক যোগাযোগ অনুকূলে না থাকায় ওই এলাকায় খামারিদের তরল দুধ বিপণনে সমস্যা হয়।
ফলে ওই দুই মৌসুমে খামারিরা নামমাত্র মূল্যে স্থানীয় বাজারে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্প এলাকার দুগ্ধ খামারিদের স্বার্থ রক্ষা ও গুঁড়া দুধ আমদানি কমানোর লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
মিল্ক ভিটায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাটে প্রথম গুঁড়া দুধের কারখানা স্থাপন করে মিল্ক ভিটা। ওই কারখানায় বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে ১২ টন গুঁড়া দুধ উৎপাদিত হয়। এ জন্য দৈনিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার লিটার তরল দুধ প্রয়োজন হয়।
দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, চাহিদা মেটাতে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২১ হাজার ৭০০ টন গুঁড়া দুধ আমদানি করা হয়। মিল্ক ভিটা ছাড়াও বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ডেইরি এবং প্রাণও দেশে গুঁড়া দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র আরও জানায়, গুঁড়া দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যে নেওয়া মিল্ক ভিটার এই প্রকল্পটি চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হলে নতুন করে বরাদ্দ দিতে হবে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের ৫৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আসবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। আর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা মিল্ক ভিটা দেবে বাকি ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
প্রকল্প ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে গুঁড়া দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্ল্যান্ট বা কারখানার মূল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কিনতে, যা মোট ব্যয়ের সাড়ে ৫৩ শতাংশ। এ ছাড়া গুঁড়া দুধ মোড়কজাতকরণের যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি, মিল্ক রিসিভিং, প্রসেসিং, ক্রিম-বাটার প্রসেসিং শাখা ইত্যাদি স্থাপনে আরও ২১ কোটি টাকা খরচ হবে।
মিল্ক ভিটা পাস্তুরিত তরল দুধ ও গুঁড়া দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি মাখন, ঘি, টক দই, মিষ্টি দই, রসমালাই, কনডেন্সড মিল্কসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করে থাকে।