নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে, কারণ...

বাংলাদেশের ব্যবসা খাতে আমরা নারীরা এমনিতে অনেক পিছিয়ে আছি। তার ওপর প্রতিবছর বাজেট দেওয়ার সময় ধরেই নেওয়া হতো, যেসব নারী ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ব্যবসা ছোট থেকে বড় হবে না। এ কারণে নীতি নির্ধারণ করা হতো শুধু কুটির শিল্প ও মাঝারি শিল্পের নারীদের মাথায় রেখে। এ ধারণাই নারীদের বড় হওয়ার পথে একটা বাধা ছিল। এ বছর বাজেট ঘোষণায় প্রথম নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনকে করমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগে এ সীমা ছিল ৫০ লাখ টাকা। ফলে করমুক্ত লেনদেনসীমা ২০ লাখ টাকা বেড়েছে। এ সীমা বাড়িয়ে সরকার শুধু যে নারীদের সহায়তা করেছে তা নয়, নারীরা যে বড় হতে পারেন, সেই আস্থা প্রকাশ করেছে। আমার কাছে এটাই এবারের বাজেটের সবচেয়ে ভালো দিক।

আশা করছি সরকারের মতো আর্থিক ও অন্যান্য সংস্থাও নারীদের ওপর আস্থা বাড়াবে। এ রকম সহযোগিতা আগামী কয়েক বছর অব্যাহত রাখলে সামনে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা অনেক বাড়বে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরটি আমাদের মতো মেডিকেলের ব্যবহার হওয়া আসবাবসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক হতে পারত। করোনার কারণে দেশে চিকিৎসাক্ষেত্রে অনেক বিনিয়োগ হবে এমন আশা ছিল। স্বাস্থ্য খাতের অসংগতিগুলো কমিয়ে খাতটাকে আরও উন্নতি করা যেত। কিন্তু এমনটি হয়নি, যদিও সরকার এ খাতে অনেক অর্থ বরাদ্দ করেছিল। শুধু বরাদ্দ করা অর্থ খরচ করতে না পারায় আমরা যাঁরা মেডিকেল সামগ্রী তৈরি করি, তাঁরা সুযোগটি কাজে লাগাতে পারিনি।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতের জন্য রাখা হয়েছে। আমার প্রত্যাশা, বাজেটে যতটুকু অর্থ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা এ খাতের উন্নয়নে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে। চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরও যেন বাস্তবায়ন করতে না পারার জন্য টাকা ফেরত না যায়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেটে হালকা প্রকৌশল শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে খাতটিকে উন্নতির নীতি প্রণয়ন করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, এই ঘোষণার ফলে হালকা প্রকৌশল খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং শিল্পটি ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু হালকা প্রকৌশল বা তৈরি পোশাক ছাড়া আরও অনেক খাত আছে, যেগুলো দেশে পণ্য তৈরি করছে এবং ভালো করছে। আমরা হাসপাতালের আসবাব, ফিজিওথেরাপির আসবাব ইত্যাদি তৈরি করি। এগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে দেশের টাকা বিদেশে চলে যায়, আবার আমাদের প্রতিযোগিতাও বেড়ে যায়। দেশকে যদি শিল্পক্ষেত্রে উন্নত করতে হয় তবে সরকারের উচিত কোন পণ্য দেশে তৈরি সম্ভব, সেগুলোর তালিকা তৈরি করা। এরপর তালিকা ধরে সেই পণ্যগুলো বিদেশ থেকে আমদানিতে উচ্চ শুল্ক বসানো অথবা আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা।

সরকার যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কখনো নেয়নি, তা নয়। ফ্রিজের ক্ষেত্রে, মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ তৈরি করা গেছে। এখন অন্য শিল্পগুলোকেও এই সুরক্ষা দেওয়া গেলে দেশে ব্যবসার প্রসার হবে।

সবশেষে আমিও অর্থমন্ত্রীর মতো মনে করি, বাজেটটি উন্নয়নের বাজেট এবং ব্যবসাবান্ধব বাজেট। কিন্তু বাজেট যদি সঠিক দিকনির্দেশনা, মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলেই ব্যবসা ও অর্থনীতির উন্নয়ন হবে।