প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
ব্যাংক খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। গভর্নর অবশ্য এ-ও মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ও সংগ্রহ করতে হবে মানুষের কাছ থেকে।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ ব্যাংকিং: দ্য লিপ ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন।
দেশের ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) দিনব্যাপী এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। আর স্বাগত বক্তব্য দেন এবিবির চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবিবির ভাইস চেয়ারম্যান আনিস এ খান ধন্যবাদ বক্তব্য দেন।
সেমিনারে ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান গভর্নর। তিনি বলেন, ৫ বছরের সঞ্চয় দিয়ে ১০ বছরের বিনিয়োগে যেতে চাইলে টেনশন হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের দিকেও যেতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় নিশ্চিত করেই এগোতে হবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকে।
উড়ালসড়ক এবং চার লেনের মতো বড় প্রকল্পেও ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ করার সময় এসেছে বলে মনে করেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘বিশদ কিছু বলছি না। তবে বিষয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো কিছু কিছু বুঝতে পারছে।’
গভর্নর ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হতে বললেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রায়ই বলে থাকেন, ব্যাংকের কাজ হওয়া উচিত মূলত চলতি মূলধনের সংস্থান করা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নয়। আর বিশ্ব ব্যাংকব্যবস্থাও এ দর্শনের ওপরই দাঁড়িয়ে।
অধিবেশন: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিজনেস কন্টিন্যুটি ম্যানেজমেন্টের আঞ্চলিক প্রধান জশোয়া জেমস ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর দুটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের (বিয়াক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এ (রুমী) আলীর সঞ্চালনায় প্রথম অধিবেশনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের প্রধান প্রশান্ত রনজিত ‘সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
পরে দি সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক এমডি কে মাহমুদ সাত্তারের সঞ্চালনায় উপস্থাপিত হয় ‘প্রযুক্তির ভূমিকা’ শীর্ষক আরেকটি প্রবন্ধ। এটি উপস্থাপন করেন আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং এলএলপির অংশীদার আবিজার দিওয়ানজি।
এগুলোর প্যানেল আলোচক ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি শাহ আলম সারোয়ার, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবরার এ আনোয়ার, ইস্টার্ন ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মেহেদী জামান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান, সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন করিম এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরীন।