বগুড়ায় শহরের চেয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিই এগিয়ে

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ায় শহরের চেয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিই বেশ এগিয়ে আছে। বর্তমানে এ জেলায় মোট ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৮টি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৪টি প্রতিষ্ঠানই গ্রামে অবস্থিত। বাকি ৫৮ হাজার ৬৮৪টি শহরে।

সার্বিকভাবে এ জেলায় গত ১০ বছরে অর্থনৈতিক কাজে জড়িত লোকসংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৩৫৩ জনে উঠেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে, যা ইতিমধ্যে ৯৮ হাজার ৭৮৬ জনে উন্নীত হয়েছে। ১০ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৮৭৪ জন। জেলাটিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত পুরুষের সংখ্যা ৬ লাখ ২৫ হাজার ৫৬৭।

এক দশকে বগুড়া জেলায় আশাতীত হারে বেড়েছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ, পরিবহন, কলকারখানা, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বাজারজাত, বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম (কোচিং সেন্টার) এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান।

২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারি থেকে বগুড়ার এসব চিত্র উঠে এসেছে। তিন বছর আগের ওই শুমারির বগুড়া জেলার প্রতিবেদন সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল যথাক্রমে ২০০১ ও ২০০৩ সালে।

অর্থনৈতিক শুমারি তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৩ সালে বগুড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় এমন প্রতিষ্ঠান ও খানার সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ১৪১টি। এর মধ্যে ৬৮ হাজার ৬৮৩টি স্থায়ী ও ৫ হাজার ৫০১টি অস্থায়ী ছিল। আর বাকি ১৫ হাজার ৯৫৭টি ছিল পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

২০১৩ সালের শুমারি অনুযায়ী,  বগুড়ায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৫৫টি স্থায়ী, ৮ হাজার ৫৫৮টি অস্থায়ী এবং ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৫টি পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান  খানা রয়েছে।

বর্তমানে বগুড়ার গ্রামাঞ্চলে ৬৭ হাজার ৪৬১টি স্থায়ী, ৫ হাজার ৫১৮টি অস্থায়ী ও ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৫টি পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও খানা রয়েছে। আর শহরাঞ্চলে ৩৬ হাজার ২৯৪টি স্থায়ী ও ৩ হাজার ৪০টি অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান এবং ১৯ হাজার ৩৫০টি খানা বা পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে।

২০০৩ সালের শুমারি অনুযায়ী বগুড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত লোকসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৬ হাজার ২২৭ জন। এতে পুরুষ ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৩, নারী ৩৭ হাজার ৮৭৪ জন। তখন অর্থনৈতিক কাজে জড়িত শহরের লোক ছিল ৮৬ হাজার ৪৯৯ ও গ্রামের ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ জন। ১০ বছরের ব্যবধানে অর্থনৈতিক কাজে জড়িত শহরের লোকসংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার  জনে এবং গ্রামে ৪ লাখ ৮৯ হাজার জনে উঠেছে।