
বাণিজ্য মেলায় ভোগ্যপণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ছাড় আর প্যাকেজের ছড়াছড়ি। মেলা উপলক্ষে অনেক প্রতিষ্ঠানই বাজারে এনেছে নতুন নতুন পণ্য। সেসব পণ্যকে ভোক্তার সামনে পরিচিত করতে বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে একেকটি প্যাভিলিয়ন ও স্টল।
তবে যাঁদের জন্য এত আয়োজন, সেই ক্রেতাসংকটই বড় দুশ্চিন্তার কারণ বিক্রয়কর্মীদের। ভোগ্যপণ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মেলায় তাঁদের যে বিক্রি, তা প্রত্যাশা বা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্ধেকেরও কম।
এবারে মেলায় বেশ কয়েকটি পণ্য বাজারে এনেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্য প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ (আরএফএল) গ্রুপ। মেলায় প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ১৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন। একেকটি পণ্যের জন্য একেকটি স্টল। মেলা উপলক্ষে তারা বাজারে এনেছে ‘ব্রেভার’ নামের সম্পূর্ণ অ্যালকোহলমুক্ত শক্তিবর্ধক পানীয়। প্রতিটি পানীয় বোতলের দাম ৩৫ টাকা। তবে মেলায় ব্রেভারের স্টলে একসঙ্গে দুটি পানীয় কিনলে দাম রাখা হচ্ছে ৬০ টাকা। আবার প্যাকেজের আওতায় কোনো ক্রেতা একসঙ্গে ছয়টি ব্রেভার কিনলে দাম রাখা হচ্ছে ১৮০ টাকা। এ ছাড়া প্রাণ আলু দিয়ে তৈরি ‘পটাটা’ বিস্কুটসহ ড্রিংকো ফ্লোট নামের প্লাস্টিকের বোতলজাত লিচুর জুস, অ্যাপল ও ফজলি নামের আলাদা পণ্য এনেছে। এসব পণ্য মূল্যছাড়ে বিক্রি হচ্ছে।
প্রাণ বিভিন্ন রকমের পণ্যের সমন্বয়ে ১৪টি প্যাকেজ নিয়ে এসেছে। প্রতিটি প্যাকেজ বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এর বাইরে মেলায় প্রাণের সব ধরনের পণ্যে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
লেক্সাস বিস্কুট বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ‘রোমানিয়ার’ প্যাভিলিয়নে ৭, ৯ ও ১৩ ধরনের পণ্য নিয়ে রয়েছে তিনটি আলাদা প্যাকেজ। প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড প্রমোটর খায়রুজ্জামান রনি জানান, এগুলোর দাম যথাক্রমে ২০০, ২৫০ ও ৩০০ টাকা। প্রতিটি প্যাকেজ বাজারমূল্যের চেয়ে ৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট ছোট ৪৮টি প্যাকেট নিয়ে তৈরি করা হয়েছে লেক্সাস বিস্কুটের একটি প্যাকেজ।
মেলা উপলক্ষে ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস বাজারে এনেছে ‘এগি ইনস্ট্যান্ট’ নুডলস। প্রতিষ্ঠানটির প্যাভিলিয়নে রয়েছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্যাকেজ। প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে সর্বনিম্ন ২৫ থেকে ৮৬ টাকা পর্যন্ত ছাড়। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রতিটি প্যাকেজের বিপরীতে রয়েছে গেমস খেলার সুযোগ। গেমসে বিজয়ীদের জন্য বিনা মূল্যে পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। এত সব আয়োজন যাঁদের জন্য, সেই ক্রেতার উপস্থিতি নিয়ে চরম হতাশ রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিদিন প্যাভিলিয়নের পেছনে যে খরচ হচ্ছে, পণ্য বিক্রি করে এখন পর্যন্ত সেই খরচই উঠছে না।
মেলা উপলক্ষে বোম্বে সুইটস ‘মিস্টার পিস’ নামের মটর ভাজা, হলুদ ও মরিচের গুঁড়ার তিনটি আলাদা নতুন পণ্য এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিপণন কর্মী রুবেল মিয়া জানান, নতুন পণ্য ছাড়াও তাঁদের রয়েছে বিশেষ ৫০ থেকে ২০০ টাকা মূল্যের তিনটি প্যাকেজ। প্রতিটি প্যাকেজে সর্বনিম্ন ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ছাড় রয়েছে।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্যাভিলিয়নেও রয়েছে ইকোনমিক, স্ট্যান্ডার্ড ও ফ্যামিলি নামের তিনটি বিশেষ প্যাকেজ। প্রতিটি প্যাকেজে ১৬ থেকে ৭৯ টাকা পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ ইলিয়াস মিয়া জানান, মেলায় প্রতিদিনের বিক্রির একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত বিক্রির যে অবস্থা, তাতে লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশও পূরণ হয়নি।
মেলায় নাবিস্কোর প্যাভিলিয়নে রয়েছে রকমারি, ইত্যাদি, টক ঝাল মিষ্টি ও সামগ্রী নামের চারটি প্যাকেজ। প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে ১০ শতাংশ করে মূল্যছাড়। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী জয়নাল আবেদিন জানান, এখন পর্যন্ত মেলায় যে বিক্রি, তা তাঁদের প্রত্যাশার প্রায় অর্ধেক।