রিচার্জ সীমা কমিয়ে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হবে না

মুঠোফোনের রিচার্জ সীমা ৫০০ টাকা বেঁধে দিয়ে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করা যাবে না বলে মনে করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এক দিনে সর্বোচ্চ রিচার্জ সীমার এই সিদ্ধান্তটি তাই পরিবর্তন করার অনুরোধ জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিটিআরসির চিঠিতে বলা হয়েছে, অবৈধ ভিওআইপির কাজে ব্যবহার হওয়া বেশির ভাগ সিমে রিচার্জের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এ কাজে ব্যবহার হওয়া প্রতি ১ হাজার সিমের মাত্র তিনটিতে একবারে ৫০০ টাকা রিচার্জ করা হয়, শতাংশের হিসাবে যা মাত্র দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
কম টাকা রিচার্জের কারণ ব্যাখ্যা করে চিঠিতে বলা হয়েছে, সিম বক্স ডিটেকশনের মাধ্যমে কোনো সিম বন্ধ হয়ে গেলে আর্থিক ক্ষতি এড়াতেই কম টাকা রিচার্জ করা হয়।
সিম বক্স ডিটেকশন হলো অবৈধ ভিওআইপি ঠেকাতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। কোনো সিম অবৈধ ভিওআইপির কাজে ব্যবহার করা হলে এই পদ্ধতিতে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ে ও বন্ধ হয়ে যায়।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ ভিওআইপির অভিযোগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার সিম বন্ধ করা হয়। সেই হিসাবে বন্ধ হওয়া এই তিন হাজার সিমের মধ্যে মাত্র নয়টি সিমে ৫০০ টাকার বেশি রিচার্জ করা হয়।
উল্লেখ্য, অবৈধ ভিওআইপি ঠেকাতে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর প্রি-পেইড সংযোগের মুঠোফোনে এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা রিচার্জের সীমা বেঁধে দিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০০৮ সালের এক নির্দেশনায় প্রিপেইড রিচার্জের সর্বোচ্চ সীমা ১ হাজার টাকা বেঁধে দিয়েছিল বিটিআরসি, যা এত দিন কার্যকর ছিল।
তবে এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা রিচার্জের এ সিদ্ধান্তটি মোবাইল অপারেটররা এখনো কার্যকর করেনি। এর কারণ হিসেবে অপারেটররা বলছে, একজন গ্রাহক ৫০০ টাকা রিচার্জ করলে এর পুরোটাই তিনি ব্যবহার করতে পারেন না। ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক যোগ করে গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ব্যবহার করেন ৪২২ টাকা। অথচ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের মুঠোফোন ও ইন্টারনেট-সংক্রান্ত অনেক প্যাকেজের মূল্য ৫০০ টাকার বেশি। তাই এ ধরনের বেশি অঙ্কের প্যাকেজ তাঁরা কিনতে পারবেন না। এক দিনে রিচার্জ সীমা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাবও দিয়েছে মোবাইল অপারেটররা।
বিটিআরসির চিঠিতে অপারেটরদের আপত্তির বিষয়টির পাশাপাশি মুঠোফোনের বিভিন্ন সেবা বিল পরিশোধ, ট্রেনের টিকিট, ভর্তি ফি পরিশোধে গ্রাহক সমস্যার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এসব সমস্যা এড়াতে এক দিনে ৫০০ টাকার পরিবর্তে এক সপ্তাহে রিচার্জ সীমা সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ২ হাজার টাকা এক বা একাধিক রিচার্জে করা যেতে পারে বলেও চিঠিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পোস্ট-পেইড ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এক মাসে যত বিল আসবে তত টাকাই এক রিচার্জে শোধ করা যাবে—এমন নির্দেশনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা বড়ুয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থী হিসেবে আমাকে এক দিনে ৫০০ টাকা রিচার্জ করতে হয় না। কিন্তু বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে ৫০০ টাকার বেশি রিচার্জের দরকার হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা কী করব?’